1. live@dailytrounkhota.com : news online : news online
  2. info@www.dailytrounkhota.com : দৈনিক তরুণ কথা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মোটরসাইকেলে ঘোরানোর কথা বলে ৯ বছরের শিশুকে অপহরণ, নির্যাতনের পর কচুরিপানার নিচে ফেলে পালানোর অভিযোগ ডিসি সারওয়ার আলমকে পুনর্বহালের দাবি সিলেট মহানগর জামায়াতের ভোট চোর ও ডাকাতরা সংসদে দাঁড়িয়ে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি করতে পারে না: ড. ফয়জুল হক হাসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন দেনিসকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গাইবান্ধায় যুবদল নেতার হামলায় নিহত শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা সম্পন্ন, এলাকায় উত্তেজনা সিংগাইরে নিখোঁজের ৬ দিন পর স্কুলছাত্রীর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ১২০ বছর বয়সেও জীবিকার সন্ধানে বৃদ্ধ কৃষক নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত নাথের পেটুয়া ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল বাকি স্যারের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, ফার্মেসি মালিক গ্রেপ্তার

‘আমার কলিজাটারে মাথা ফুটা করে মারতে হইলো ক্যান’

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

আমার কুলে পুলাডা ছটফটাইয়া মইরা গেল, মাথায় গুলি কইরা আমার বাপজানরে ওরা মাইরা ফেলাইছে। বাঁচবার লাইগা আমার বাপজান আমার কাছে কতই না আকুতি করছে। কিন্তু আমি তো বাঁচাইতে পারলাম না। আমার পোলা তো কোনো রাজনীতি করতো না। তারপরেও আমার নিরপরাধ পুলাডারে এভাবে মাইরা ফেলাইলো। আল্লাহ এর বিচার করবো।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে গত ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া গার্মেন্টস কর্মী আসিফের বাবা আমজাদ হোসেন কাঁদতে কাঁদতে কালবেলাকে কথাগুলো বলছিলেন।

আসিফ শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের ছেলে। ১৯ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ২০ জুলাই সকালে তার মরদেহ শেরপুরে আনা হয় এবং দুপুরে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আমার কুলে পুলাডা ছটফটাইয়া মইরা গেল, মাথায় গুলি কইরা আমার বাপজানরে ওরা মাইরা ফেলাইছে। বাঁচবার লাইগা আমার বাপজান আমার কাছে কতই না আকুতি করছে। কিন্তু আমি তো বাঁচাইতে পারলাম না। আমার পোলা তো কোনো রাজনীতি করতো না। তারপরেও আমার নিরপরাধ পুলাডারে এভাবে মাইরা ফেলাইলো। আল্লাহ এর বিচার করবো।’

আসিফ শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের ছেলে। ১৯ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ২০ জুলাই সকালে তার মরদেহ শেরপুরে আনা হয় এবং দুপুরে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আসিফ বছর খানেক হয় মিরপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ শুরু করার পর থেকে তার বাবার সঙ্গে মিরপুরে বসবাস করতো। বাবার দীর্ঘদিনের ব্যবসা থাকায় অনেক মানুষের সঙ্গে তাদের সখ্য ছিল। সেই সুবাদে তৈরি হয়েছিল বন্ধু-বান্ধব। তবে অল্প বেতনের চাকরি ছেড়ে আগামী মাস থেকে বাবার ঝুটের ব্যবসায় সাহায্য করার কথা ছিল তার। প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন আসিফ। কিন্তু তা আর হলো না। এই নিষ্ঠুর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আসিফের বাবা নিজেই।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আসিফের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজ পইড়া বাসায় আসি। এরপর বাপ-পোলা মিইলা দুপুরের খাবার খাইয়া ঘুমাইয়া পড়ি। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পোলাডা কইলো এক বন্ধু ফোন দিছে তার সাথে দেখা করতে হবে। শুক্রবার বন্ধের দিন, তাই পুলারে মানা করি নাই। কেরা জানে আমার পুলা আর ফিইরা আইবো না। হঠাৎ সন্ধ্যা ছয়টায় দিকে পোলায় ফোন দিয়া কইলো ‘আব্বু আমি অ্যাক্সিডেন্ট করছি, তুমি তাড়াতাড়ি আসো’। আমি কোনমতো দৌঁড়াইয়া গিয়া দেখি মাথার ডান পাশে গুলি খাইয়া পুলাডা মিরপুরের আলোক হাসপাতালে পইড়া আছে। তহনও গোলাগুলি চলতেই আছে। রাস্তায় এডা রিকশাও নাই। যে কয়ডা আছে গুলির ভয়ে যাইবার চায় না। পরে বুঝাইয়া একটা রিকশা নিয়া সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাই পুলাডারে। সেখানের ডাক্তারা মাথায় ব্যান্ডেজ কইরা রেফার কইরা দেয় নিউরোসাইন্স হাসপাতালে। রিকশায় কইরা যখন নিউরোসাইন্স এ যাইতাছি, তখন বাপে ব্যাথায় কাতরাইয়া কইতাছিল ‘আমার উপর থেকে দাবি ছাইড়া দিও আব্বা। আমি তোমার স্বপ্নপূরণ করবার পাইলাম না। আমি আর বাঁচবো না।’তখন আমার বুকটা ফাইটা যাইতেছিল। নিউরোসায়েন্সের ডাক্তাররা কইলো আমার বুকের ধন আর নাই, মইরা গেছে।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই পরিবারের খোঁজ নেওয়া হবে। পরিবারটির সহযোগিতায় আমরা পাশে থাকব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট