1. live@dailytrounkhota.com : news online : news online
  2. info@www.dailytrounkhota.com : দৈনিক তরুণ কথা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ভোট চোর ও ডাকাতরা সংসদে দাঁড়িয়ে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি করতে পারে না: ড. ফয়জুল হক হাসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন দেনিসকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গাইবান্ধায় যুবদল নেতার হামলায় নিহত শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা সম্পন্ন, এলাকায় উত্তেজনা সিংগাইরে নিখোঁজের ৬ দিন পর স্কুলছাত্রীর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ১২০ বছর বয়সেও জীবিকার সন্ধানে বৃদ্ধ কৃষক নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত নাথের পেটুয়া ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল বাকি স্যারের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, ফার্মেসি মালিক গ্রেপ্তার ​”মোহভঙ্গ ও ট্রানজিট লাউঞ্জ”– “ফিরোজ আলম” লাকসামে যাত্রী সেজে অটোরিকশা চুরি: চালকসহ আটক ১, থানায় মামলা

শনাক্ত হচ্ছে অর্থ জোগানদাতারা

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪
  • ২৬৮ বার পড়া হয়েছে

নাশকতার অর্থ এসেছে পাঁচ দেশ থেকে। দেশীয় ব্যক্তিরাও দিয়েছেন কিছু অংশ। অর্থ আসে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে। কম খরচে চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত ছিল হাসপাতাল

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে নাশকতার ঘটনায় অর্থ জোগানদাতারা শনাক্ত হচ্ছে। শনাক্ত হচ্ছে এসব ঘটনা বাস্তবায়নকারী এবং সমন্বয়কারীরাও। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, পাঁচটি দেশ থেকে বিভিন্ন ব্যানারে নিয়মিত অর্থ আসত। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব থেকে আসা এসব অর্থের জোগানদাতাদের নামও তারা পেয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের হয়ে এসব প্রবাসী বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরেই নাশকতাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। সবশেষ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ধ্বংসাত্মক রূপ দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের জোগান দিয়েছেন তারা। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, নাশকতাকারীদের কাছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে অর্থ আসছিল। র‌্যাবের কাছে গ্রেপ্তার গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মো. তারেক রহমানের কাছেও কয়েক দফায় এসেছিল ১৬ লাখ টাকা। তার দায়িত্ব ছিল রামপুরা এবং বাড্ডা এলাকার বিষয়টি সমন্বয় করা। বিটিভি, রামপুরা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন, বিজিবির এপিসি ভাঙচুরসহ অনেক ধ্বংসাত্মক কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে তার মাধ্যমে। ফ্রান্সে থাকা একজন ইউটিউবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। গ্রামের বাড়ি একই এলাকার হওয়ায় তারেকের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি ছিল ওই ব্যক্তির। আবার লন্ডনে থাকা বিএনপির এক শীর্ষ নেতাও তার সঙ্গে মাঝেমধ্যে ভিডিও কলে কথা বলতেন। ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নূরের সঙ্গে তারেকের বিরোধের পর থেকে তাকে বেছে নেন বিএনপিপন্থি নেতারা। গত বুধবারও তার সঙ্গে বনানীর একটি অফিসে নাশকতা সংক্রান্তে বৈঠকও করেছিলেন বরকত উল্লাহ বুলু, জুনায়েদ সাকি, ভাসানী, ফারুক, বরকত, মনির, ইরান, ফারুক নামের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা। ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তৈরি করা হয়েছিল এ সংক্রান্ত নীলনকশা।

সূত্র আরও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ফয়সল, খন্দকার এবং এফএমইউ নামের তিনজন ব্যক্তি নগদ (এমএফএস) সার্ভিসে নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন তারেকের কাছে। পরবর্তীতে তিনি তা তার সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দিতেন। নাশকতামূলক কর্মকান্ড নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখতে বলতেন। আহত ব্যক্তিদের কম খরচে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর একটি নামকরা হাসপাতালে বলে রাখা হয়েছিল। আর এর সমন্বয় করতেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খন্দকার নামের একজন চিকিৎসক। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র বলছে, বিএনপিপন্থি অন্তত ৩০ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে নাশকতাকান্ড বাস্তবায়নের জন্য। গ্রেফতারকৃতরা ইতোমধ্যে ওই ব্যবসায়ীদের নাম ফাঁস করে দিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে। তবে উত্তোলিত টাকার প্রায় অর্ধেকই উত্তোলনকারীরা নিজেদের কাছে রেখে দিতেন। অর্ধেক টাকা পৌঁছত নাশকতাকারীদের কাছে। আবার অনেক সময় পুরোটাই তারা নিজেরা মেরে দিয়েছেন। বর্তমানে রিমান্ডে থাকা অর্থদাতা, সমন্বয়ক এবং বাস্তবায়নকারীদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পেয়েছি। সাইফুল ইসলাম নীরব, টুকু, মজনুসহ আরও কিছু সাবেক ছাত্রনেতা বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নিতেন। অর্থদাতাদের অনেক বিএনপির শীর্ষ নেতা এবং ব্যবসায়ী। লন্ডনে থাকা তারেক রহমান ওই ব্যক্তিদের নাম বলে দিতেন। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেছেন, নাশকতার বাস্তবায়ন সংক্রান্তে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। কীভাবে অর্থ নাশকতাকারীদের কাছে পৌঁছেছে সেই রুট সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো এখন যাচাই-বাছাই চলছে। তবে যারা নাশকতার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে হামলা ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় রাজধানী ঢাকা। সহিংসতায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় চালানো হয় হামলা। মেট্রো স্টেশনে হামলায় বন্ধ হয়ে গেছে মেট্রোরেল চলাচল। সেতু ভবন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অগ্নিসংযোগে পুড়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। এ ছাড়া ডেটা সেন্টারে অগ্নিসংযোগের ফলে ইন্টারনেট সেবা ও রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে হামলায় সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় মেট্রোরেলের দুই স্টেশন। টিকিট ভেন্ডিং মেশিন (টিভিএম), মনিটরসহ বিভিন্ন নির্দেশক বক্স ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে অকেজো হয়ে পড়েছে টিভিএম মেশিন। এ ছাড়া যাত্রীসেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার চুরি করে নিয়ে যায় হামলাকরীরা। হামলার ফলে এই স্টেশন দুটি যাত্রীসেবার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর্থিক ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব এখনো জানা যায়নি। তবে এই দুটি স্টেশন পুনরায় চালু করতে অন্তত এক বছর সময় লাগবে। দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে ভস্মিভূত হয়েছে পুরো সেতু ভবন। অগ্নিকান্ডে পুড়ে গেছে অন্তত ৫৫টি গাড়ি। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। তবে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো জানা যায়নি। এই ঘটনার তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সেতু মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ফলে অধিদপ্তরটির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে। রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়েছে মোটরসাইকেল, গাড়িসহ প্রডাকশন সেট। পুড়ে যায় ২০-২৫টি গাড়ি। ডেটা সেন্টারে আগ্নিসংযোগের ফলে ইন্টারনেট সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন সারা দেশ। মিরপুরের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনে অগ্নিকান্ডে ঢাকা বিভাগীয় পরিচালকের গাড়ি, কার্যালয় ও একটি বাস পুড়ে যায়। এ ছাড়াও চলমান আন্দোলনে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মহাখালী টোল প্লাজা, মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর বনশ্রী কার্যালয়, ধানমন্ডির ওষুধ প্রশাসন ভবনে অগ্নিসংযোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

সূত্র মতে, হামলাকারীদের টার্গেটে ছিল পুলিশ ও সাংবাদিক। হামলাকারীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢুকে যায়। এরপর সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে টার্গেট করে হামলা চালাতে থাকে। আর এসব হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটানোর জন্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। আর এই অর্থগুলো আসে বিভিন্ন দেশ ও ব্যক্তির কাছ থেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট