1. live@dailytrounkhota.com : news online : news online
  2. info@www.dailytrounkhota.com : দৈনিক তরুণ কথা :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
মোটরসাইকেলে ঘোরানোর কথা বলে ৯ বছরের শিশুকে অপহরণ, নির্যাতনের পর কচুরিপানার নিচে ফেলে পালানোর অভিযোগ ডিসি সারওয়ার আলমকে পুনর্বহালের দাবি সিলেট মহানগর জামায়াতের ভোট চোর ও ডাকাতরা সংসদে দাঁড়িয়ে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি করতে পারে না: ড. ফয়জুল হক হাসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন দেনিসকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন গাইবান্ধায় যুবদল নেতার হামলায় নিহত শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর জানাজা সম্পন্ন, এলাকায় উত্তেজনা সিংগাইরে নিখোঁজের ৬ দিন পর স্কুলছাত্রীর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ১২০ বছর বয়সেও জীবিকার সন্ধানে বৃদ্ধ কৃষক নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় মোমো নারী ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত নাথের পেটুয়া ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল বাকি স্যারের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে শিশুকে ধর্ষণ, ফার্মেসি মালিক গ্রেপ্তার

“আমার ছেলেবেলা” –ফিরোজ আলম

এম.এ.মান্নান.মান্না:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ জুন, ২০২৫
  • ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে
বর্ষার কাদাজল মাড়িয়ে,
দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিয়ে,
গিয়েছি মোরা পাঠশালাতে।
দিতে পাড়ি সাঁকো, গিয়েছি পড়ে কতো ,
গায়ের জামা পেন্ট ভরেছি কাদা আর মাটিতে।
কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরে এসেছি বাড়িতে,
তারপরও মা পাঠিয়েছেন পাঠশালাতে।
ছিলোনা বিজলী বাতি, ছিলোনা বড়-বড় ভবন, আর আইসিটি,
ছিলো ভাঙা মুলির বেড়া আর ঢোলকলমির লাঠি।
গণিতে পঁচানব্বই পেয়েও শাস্তি পাঁচের বাকি,
কার আছে সাধ্য রবিউল স্যারকে দিবে ফাঁকি।
পাঁচে চারের পর শব্দ হলে আ অথবা উু…..
আগের চার পঁচে নতুন পাঁচ শুরু।
কতো কঠোর ছিলেন আমাদের গুরু।
নিউজপ্রিন্ট কাগজে বারবার মুছে মুছে পেন্সিল দিয়ে লিখা।
অযথা কাগজ করলে নষ্ট,
পেন্সিল দুই আঙুলের মাঝে ঢুকিয়ে
দিতো চাপ,
ওরে বাপরে বাপ!
সেকি ব্যাথা আর সেকি কষ্ট!
এক টাকার কানি বিস্কুট আর এক টাকার চা,
ছিলো মোদের টিফিনের মজার নাস্তা।
কখনও হাওয়াই মিঠাই কখনও চিটাগুড়ের কটকটি,
কখনও চার আনার আইসক্রিমের জন্য সেকি ছুটাছুটি।
তারপর ঝর্ণা কলমে ইয়ুথ দোয়াতের কালি,
সামনে বসা বন্ধুর সাদা জামা শতশত দাগে হতো ফালি ফালি।
দুই টাকায় আলিফলায়লা সিন্দাবাদ আর এক চোখের ডাকু,
সাথে ছিলো মালিকা হামিরার জাদু,
আরো ছিলো আলাদিনের চেরাগ আর দৈত্য,
হুকুম করুন জাহাপনা, হা হা!
খুলজা সিমসিম, টিভি করতো ঝিমঝিম।
ঘুরাও বাঁশ, ঘুরাও লাঠি
গাছ বা টিনের ছালায় উঠি।
টিনের বাক্সের বায়স্কোপওয়ালা —
তারপরেতে দেখে ভালো, গাঁয়ের পথে তরি এলো, বঁধুয়া যে নাইয়র গেলো।
বা তারপরেতে কি আছে??
বুড়া বেডা বসি আছে।
তারপরেতে কি আছে??
পৌনে তিন মনের এক বেডি আছে।
বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদ বাঘ সিংহের লড়াই যেমনি,
আবাহনী আর মোহামেডান ছিলো তেমনি!
গ্রামীন সম্পর্কীয় মামাদের টিভিতে,
বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা হতো রাত্রিতে।
উঠানের মাঝখানে থাকতো পাতা টিভি,
পুরো উঠানে বিছানো থাকতো খড় আর শীতলপাটি।
মামা,খালা, নানা আর নানী
আমার জন্মেরও অনেক আগেই দিয়েছে পাড়ি, জমের বাড়ি।
সবাই গেছে চলে স্বার্থপরের মতো মাকে ছাড়ি।
মামা, খালা, নানা -নানীর স্নেহ ভালোবাসা আর আদর যত্ন,
পাইনি জীবনে কখনও!
দাদা-দাদিও খুব ছোট বেলাতেই হয়েছিলেন গত!
তাদের কথা, তাদের ছবি মনের ক্যানভাসে ভাসেনাতো!
সন্ধ্যা হলে হারিকেনের চিমনি মাজতে কতো কেঁটেছি হাত,
ফিনকি দিয়ে হয়েছে কতো রক্তপাত!
এক টেবিলে চার ভাইবোনের পড়া,
পড়ার শেষ পর্যন্ত মা থাকতেন লাঠি নিয়ে খাড়া।
রাত দশটা পর্যন্ত পড়ার শব্দে পুরো বাড়ি উঠতো মেতে,
মাঝে-মাঝে আসতো গুরুজী,
পড়ি কিনা পরখ করতে রাতে।
তারপর রাতে বাবা আসলে বাড়ি,
এক সাথে খেয়ে ঘুমের রাজ্যে দিতাম পাড়ি।
ছোটদের প্রতি ছিল প্রেমপ্রীতি, স্নেহ -ভালোবাসা,
বড়োদের সম্মান, সালাম , শ্রদ্ধা আর ভক্তি,
সবার মাঝে কাজ করতো যেন একতাই শক্তি।
কেড়ে নিয়েছে সব স্টার জলসা, জি বাংলা, ফ্রি- ফায়ার আর পাপজি।
ঘুড়ি উড়ানো, পাড়া বেড়ানো, কলা পাতায় আম ভর্তা,
কোথায় হারিয়ে গেলো আমাদের সোনালি দিনটা।।
পেতাম যদি আলাদীনের সেই চেরাগ আর দৈত্য,
ফিরিয়ে চাইতাম সোনালি দিনগুলো সত্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট