
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর চরম আতঙ্কে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না ভুক্তভোগী নারী। বর্তমানে তিনি তার স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থান করছেন।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অপর এক অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ওই দম্পতি তাদের দুই সন্তান নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারীর রাজমিস্ত্রি স্বামী কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ঘরে ঢুকে আসামিরা তার দুই শিশুসন্তানের সামনেই তার মুখ চেপে ধরে এবং টেনে-হিঁচড়ে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তিনজন মিলে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে প্রভাবশালীদের চাপ উপেক্ষা করে গত শুক্রবার বিকেলে তিনি নিজে বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ (৪০) এবং তার সহযোগী শাহিন মিয়া (৩৮)। ঘটনার সাথে জড়িত তৃতীয় আসামি এখনো পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।