
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের নিখোঁজ হওয়া এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে চরম ধোঁয়াশা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিসান বিয়ে এড়াতে নিখোঁজের নাটক সাজিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় নেতারা ওই নারীকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে এই মামলা করিয়েছে।
ধর্ষণের অভিযোগ তোলা ২৫ বছর বয়সী ওই নারীর বোনের দাবি, গত শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ১৫-২০ জন লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার বোন ও ভাগ্নেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয় কিছু নেতাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, “আমার বাবা একজন স্ট্রোকের রোগী। বাড়ি থেকে আমার বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের কাউকে সাথে যেতে দেওয়া হয়নি, এমনকি মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে কোনো কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়নি। পরে রাত ৮টার দিকে আমরা জানতে পারি তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” পরিবারের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই এই মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। নারীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা কোনো মেয়েকে তুলিনি। মেয়েটি নিজেই থানায় অভিযোগ করতে এসেছিল।”
মামলার বিবরণী উল্লেখ করে পুলিশ সুপার জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে জিসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা করেছেন। এজাহার অনুযায়ী, ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে জিসানের সাথে ওই নারীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে জিসান তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী গর্ভবতী হলে জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে ওষুধ পাঠিয়ে ভ্রূণ নষ্ট করেন।
পুলিশের দাবি, গত শুক্রবার (১২ জুন) তাদের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বিয়ে থেকে বাঁচতেই বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে জিসান নিজে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে তাকে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর জিসান মিয়া প্রধানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, জিসান পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলেই তাকে আদালতে তোলা হবে।
তবে শনিবার সন্ধ্যায় জিসানের ভাই রাসেল রাফি জানান, হাসপাতালে জিসানের সাথে দেখা করতে গিয়ে তারা তাকে ঘুমান্ত অবস্থায় দেখেন। তাদের ধারণা, জিসানকে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে রাখা হয়েছে। জিসানের সাথে সরাসরি কথা না বলা পর্যন্ত এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
এদিকে, সম্পূর্ণ সুস্থ থাকার পরও কেন জিসানকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না— এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শাহজাহানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সমগ্র বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।