
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ২০২১ সাল থেকে দৈনিক পত্রিকার নিয়মিত সরবরাহ কার্যত বন্ধ। অথচ এই উপজেলায় একাধিক প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রেসক্লাবের সংখ্যা বাড়লেও সাধারণ মানুষের হাতে সংবাদপত্র পৌঁছানোর ব্যবস্থা আর নেই।
জানা যায়, উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পত্রিকা হকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আর কেউ এই পেশায় এগিয়ে আসেননি। ফলে পুরো উপজেলার মানুষ প্রতিদিনের সংবাদপত্র থেকে বঞ্চিত।
আমার শৈশবের একটি বড় স্মৃতি হলো, প্রতিদিন সকালে বাবা সংবাদপত্র পড়তেন। তাঁর দেখাদেখি আমিও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলি। আজও ঢাকায় চাকরির সুবাদে নিয়মিত দৈনিক পেপার পড়ার সুযোগ পাই। কিন্তু আমার নিজের উপজেলার মানুষ, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত আমার বাবাও, বহু বছর ধরে হাতে কোনো দৈনিক পত্রিকা পান না। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো উপজেলার বঞ্চনার চিত্র।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলভিত্তিক সাংবাদিকতার বিস্তার ঘটেছে। কিন্তু তা কখনোই একটি দায়িত্বশীল জাতীয় দৈনিকের বিকল্প হতে পারে না। যাচাই করা তথ্য, বিশ্লেষণ, সম্পাদকীয় ও মতামত জানতে এখনো সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। মোবাইলে দ্রুত খবর পাওয়া গেলেও, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও সচেতন নাগরিক তৈরিতে মুদ্রিত পত্রিকার ভূমিকা অনন্য।
মনোহরগঞ্জ এমনিতেই একটি জলা অঞ্চল ও তুলনামূলক অনুন্নত উপজেলা। শিক্ষার হারও আশানুরূপ নয়। এমন একটি এলাকায় বই ও সংবাদপত্রের সহজপ্রাপ্যতা আরও বেশি প্রয়োজন। কারণ সত্যনিষ্ঠ সংবাদ মানুষের চিন্তার পরিধি বাড়ায়, সমাজকে সচেতন করে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করে।
তাই সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ এবং আগ্রহী উদ্যোক্তাদের প্রতি অনুরোধ—মনোহরগঞ্জে যেন দ্রুত দৈনিক পত্রিকা সরবরাহ পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একটি উপজেলার মানুষ যেন আর সংবাদপত্র থেকে বঞ্চিত না থাকে।
মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ
ঢাকা (স্থায়ী নিবাস: মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা)