1. live@dailytrounkhota.com : news online : news online
  2. info@www.dailytrounkhota.com : দৈনিক তরুণ কথা :
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
রাজধানী স্পেশালাইজড হাসপাতালে নতুন ফার্মেসির উদ্বোধন করলেন মুফতি মুশতাকুন্নবী কাসেমী মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ১৩ সমঝোতা স্মারক সই, অভিন্ন ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত মনোহরগঞ্জে সরকারি খালের উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করল উপজেলা প্রশাসন ওয়েস্টিনে RMG Club-এর কর্পোরেট অফিস উদ্বোধন ও BBCCI-এর সাথে সমঝোতা স্মারক সই: উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত ও আবুল কালাম এমপি শিশুকল্যাণ পরিষদে কবি আল্লামা মাহমুদুল হাসান নিজামী’র স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত মনোহরগঞ্জে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মতবিনিময় সভা ও ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নাথেরপেটুয়া জেনারেল হাসপাতালে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের নবজাতক কন্যাকে দেখতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত শিবালয়ে অসচ্ছল মেধাবী ছাত্রীর পাশে ‘শতরূপা ফাউন্ডেশন’, মাস্টার্সে ভর্তির স্বপ্ন পূরণ নাঙ্গলকোট পৌরসভার ‘গুপ্ত বাজেট’ নিয়ে প্রশ্ন

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ১৩ সমঝোতা স্মারক সই, অভিন্ন ভবিষ্যতের নতুন দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

মালয়েশিয়া ও চীন সরকারের আমন্ত্রণে নিজের প্রথম অত্যন্ত সফল সরকারি বিদেশ সফর সম্পন্ন করে আজ দেশে ফিরেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছয় দিনের এই ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক-সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এবং চীন ছিল তাঁর দ্বিতীয় সরকারি বিদেশ সফর।

চীন সফর: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক ও ১৩টি MoU স্বাক্ষর

চীন সফরের শেষ দিনে বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ-চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব’ (Bangladesh–China Community with a Shared Future) গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যা দুই দেশের কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে। একই দিনে তিনি চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান Zhao Leji-এর সঙ্গেও বৈঠক করেন এবং পরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস ও ঐতিহ্যবিষয়ক জাদুঘর (Museum of the CPC) পরিদর্শন করেন। বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদায়ের প্রাক্কালে তাঁকে চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রিমিয়ার এইচ. ই. লি ছিয়াং (H. E. Li Qiang) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। দুই দেশের প্রিমিয়ারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। একই দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং এবং পানিসম্পদমন্ত্রী লি গুয়িংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিপুল বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

Summer Davos-এ জলবায়ু নেতৃত্ব ও বেইজিংয়ে রাজকীয় অভ্যর্থনা

গত বুধবার (২৪ জুন) সকালে চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) প্ল্যানারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যৌথ ফটোসেশনে অংশ নেন। এরপর দুপুরে দালিয়ান থেকে হাই-স্পিড (বুলেট) ট্রেনে বেইজিং পৌঁছালে চাওইয়াং রেলওয়ে স্টেশনে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান চীনের ‘জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’-এর মন্ত্রী এবং সিপিসি-এর কমিটির সেক্রেটারি সুন মেইজুন। সেখানে তাঁকে বর্ণাঢ্য ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান শেষে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’-এ “Climate Leadership in a Shifting Global Landscape” শীর্ষক সেশনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সফরকালে WEF-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগির সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় এবং জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

মালয়েশিয়া সফর: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার

এর আগে গত রবিবার (২১ জুন ২০২৬) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দেশটির ধর্মমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান তাঁকে স্বাগত জানান এবং আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পেরদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘লাল গালিচা’ সংবর্ধনা ও ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করেন। পরে দুই নেতার মধ্যে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরা যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দালিয়ান বিমানবন্দরে লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর বাই ইং তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জনাব তারেক রহমানের এই প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট