
টঙ্গী প্রতিনিধি: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় এবং থানার প্রধান ফটক জুড়েই গড়ে উঠেছে অবৈধ যানবাহনের বিশাল সাম্রাজ্য। গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার প্রধান ফটক থেকে শুরু করে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত পুরো সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন। আর এসব অবৈধ স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন চলছে লাখ লাখ টাকার রমরমা চাঁদাবাজি।
সরেজমিনে চিত্র: অনুসন্ধানে দেখা যায়, টঙ্গী পূর্ব থানার প্রধান ফটকের ঠিক সামনে থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত সড়কের একটি বড় অংশ এখন অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি চালকদের দখলে। ব্যস্ততম এই সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং স্ট্যান্ড গড়ে তোলার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে সাধারণ পথচারী, যাত্রী এবং খোদ থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রমরমা চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্র। প্রতিদিন প্রতিটি অটোরিকশা এবং সিএনজি থেকে নির্দিষ্ট হারে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা না দিলে কোনো চালককে এখানে গাড়ি দাঁড় করাতে দেওয়া হয় না। প্রতিদিন আদায়কৃত এই বিপুল পরিমাণ চাঁদার টাকা ভাগাভাগি হয় সিন্ডিকেটের বিভিন্ন স্তরে।
থানা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা: সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ‘টঙ্গী পূর্ব থানা’র ঠিক চোখের সামনে দিনের পর দিন এই অনিয়ম চলে আসছে। থানার প্রধান ফটকের সামনেই যেখানে আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, সেখানে পুলিশ প্রশাসনের কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মধ্যে ‘অদৃশ্য সমঝোতা’ থাকার কারণেই থানা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
জনগণের দাবি: থানার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সরকারি দপ্তরের সামনে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড পুরো শাসন ব্যবস্থার জবাবদিহিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। অবিলম্বে এই অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন উচ্ছেদ করে সড়ক অবমুক্ত করার এবং চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন টঙ্গীবাসী।