
নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ০৯নং নবীপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত হামলায় আরও চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নবীপুর ইউনিয়নে হারুন ও তার দলবল মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এলাকার পরিবেশ রক্ষায় এবং যুবসমাজকে বাঁচাতে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ও শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করেন। এরই জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক সম্রাট হারুন ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিবাদকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয় এবং আরও চারজন রক্তাক্ত জখম হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে খুনি হারুনসহ সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি:
নিরপেক্ষ বিচার: অপরাধী রাজনৈতিক প্রভাবশালী দলের পরিচয় ব্যবহার করে যেন পার পেয়ে না যায়। আইনের শাসন বজায় রেখে খুনিকে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়।
গণমাধ্যমের ভূমিকা: এই ধরনের অপরাধের খবর যেন জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে সঠিকভাবে উঠে আসে, যাতে অপরাধীদের ওপর সামাজিক ও আইনি চাপ তৈরি হয়।
এলাকাবাসীর বক্তব্য: > “অপরাধীর কোনো দল নেই। যে মাদক ব্যবসা করে এবং মানুষকে কুপিয়ে হত্যা করে, সে সমাজের শত্রু। আমরা দল-মত নির্বিশেষে এই খুনের সুষ্ঠু বিচার চাই এবং সেনবাগ থেকে মাদক নির্মূলের দাবি জানাচ্ছি।”
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।