
ইউরোপের ভিসা, মোটা অংকের বেতনের চাকরি, বিলাসী জীবন এসবের লোভ দেখিয়ে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের কাশই গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে মোঃ শাকিলের কাছ থেকে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় একই এলাকার আশিয়াদারি গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে রায়হান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রায়হান দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লোকজন পাঠানোর কাজ করছে। শাকিল এবং রায়হান একই এলাকার পাশাপাশি গ্রামের হওয়ায় দুজনেই পূর্বপরিচিত। পরিচিতির সূত্রে রায়হান শাকিলকে ইউরোপের দেশ রোমানিয়ায় ভালো চাকরির ভিসা আছে, বেতন দেড় লক্ষ টাকার লোভ দেখায়। রোমানিয়ায় যেতে খরচ লাগবে ১২ লক্ষ টাকা। এবিষয়ে শাকিল রায়হানের বাবা বাচ্চু মিয়া, মা শিরিন আক্তারের সাথে কথা বললে তারাও চাকরি এবং ভালো বেতনের নিশ্চয়তা দেন। রায়হানের বাবা, মায়ের নিশ্চয়তা পেয়ে শাকিল গত বছরের ১০ এপ্রিল রায়হানের বাবা বাচ্চু মিয়ার কাছে ৪ লক্ষ টাকা এবং পাসপোর্ট প্রদান করে। ৬ মাসের মধ্যে ভিসা দেয়ার কথা বলে টাকা আর পাসপোর্ট নিয়েছে বলে জানান শাকিল। টাকা পাসপোর্ট নেয়ার কয়েকদিন পর রোমানিয়ার ভিসা নেপাল গিয়ে প্রসেসিং করার কথা বলে রায়হান, এজন্য শাকিলকে ১৬ জুলাই নেপাল যেতে হবে এবং ভিসার কাজের জন্য জরুরি আরো টাকা লাগবে, পরে ১৫ জুলাই রায়হানের ইসলামি ব্যাংকের একাউন্টে ২ লক্ষ ৬২ বাষট্টি হাজার টাকা প্রদান করে। টাকা দেয়ার পরদিন শাকিলকে নেপাল নিয়ে যায় রায়হান। নেপালে যাওয়ার পর ভিসা বাবদ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন করতে জরুরী ভিত্তিতে আরো ৩ তিন লক্ষ টাকা দাবি করে রায়হান। শাকিল তার পরিবারের সদস্যদেরকে জানালে তার বাবা, মা, ভাই বোন আত্মীয় স্বজনরা রায়হানের দেওয়া একাউন্ট নাম্বার MOHINI COMMERCIAL নামীয় ২০৫০৩৯১০১০০০৭৫৯০২ একাউন্টে ৩ (তিন লক্ষ) টাকা পাঠায়। পরবর্তীতে বাদী ও ১নং আসামী প্রায় ১ মাস নেপালে অবস্থান করার পর জানায় ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ, দেশে গিয়ে পুনরায় নেপাল এসে ভিসার কাজ সম্পন্ন করবে বলে ১৩ আগস্ট ২০২৫ নেপাল থেকে দেশে ফেরত আসে। কয়েকদিন পর আবারো নেপাল যাওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করে রায়হান। স্বপ্নের ইউরোপে যেতে শাকিল রায়হানের 20507770227428215 একাউন্টে আবারো এক লক্ষ উনচল্লিশ হাজার উনচল্লিশ টাকা ছিয়ানব্বই পয়সা) পাঠায়। টাকা পাওয়ার পর রায়হান গা ঢাকা দেয়। যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় শাকিলের সাথে।নিরুপায় হয়ে শাকিল রায়হানের গ্রামের বাড়িতে ইউরোপের ভিসা অথবা সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের জন্য গেলে বেরিয়ে আসে রায়হানের প্রতারণা। এর আগে শাকিলের মতই এলাকার শরিফ, নাজিম, সাকিব নামের কয়েকজনের কাছ থেকে সৌদি আরব এবং ইউরোপে নেয়ার লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ইং শাকিল, রায়হানের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা মাকে ইউরোপের ভিসা বিষয়ে কথা বলতে গেলে রায়হান এবং তার বাবা মা মিলে শাকিলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে। সহায় সম্বল হারিয়ে নিরুপায় শাকিল রায়হানকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এবিষয়ে স্থানীয় লোকজন বলেন রায়হান এর আগেও বিদেশ নেয়ার কথা বলে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেয়। দু’একজনকে বিদেশ পাঠালেও চাকরি না পেয়ে তারা দেশে ফেরত আসে। তদন্ত করে রায়হানকে শাস্তির আওতায় দাবি জানান ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।