
খুব নীরবে একটি ছেলে তোমার কথা ভাবে
রাত দুপুরে বুকের ভিতর ঝিঁঝিঁ-পোকা কাঁদে,
দাঁড়িয়ে থাকে একলা একা আঁধার কালো রাতে
নিশির জলে মায়ার সুরে কেউবা তারে ডাকে!
খুব নিশীথে প্রেমের ঘোরে সোনার তরী নিয়ে
গভীর রাতে গহীন বুকে জোছনা জলে ভাসে,
মেঘের থরে ভেসে বেড়ায় তেপান্তরের মাঠে
নির্জনতায় খুঁজছে তারে প্রেমের ঘাটে ঘাটে :
একটা আছে একটা-যে নাই জোড় শালিকের দেশে
হারিয়ে গেছে ওই মেয়েটি শাপলা শালুক তুলে!
খালেও নেই বিলেও নেই, ইট-পাথরের ঘরে—
ফুঁপিয়ে কাঁদে বুকের ভিতর সাগর জলোচ্ছ্বাসে!
ফিসফিসিয়ে বলেনা কেউ প্রেমের অভিসারে
বুঝেনা কেউ লুকিয়ে আছে নকশী-কাঁথার ফোঁড়ে,
খুব বিরহে ব্যাকুল বধু প্রেমের চিঠি লিখে!—
পাবে কী আর হারানো ধন—হারিয়ে গেলে শেষে?
ঝোপ জঙ্গলে তালাশ করে কাঠ-পাথরের ঘরে
কোথায় গেছে পাখ-পাখালি—উরগ ভুজগ মিলে;
দেখেনা আর বাঁশ বাগানে তারার বাসর বসে—
এ যাতনায় গহন বুকে জোনাক পোকা জ্বলে!
তবু আশায় যাচ্ছে জীবন প্রেমের স্বপ্ন বুনে
ছয় ঋতুতে ষরজ সুরে বসন্ত দিন গুনে—
আসবে ফিরে দুপুরমনি জারুল ফুলের দিনে,
বর্ষা এখন চোখের জলে কাঁচের চুড়ি ভাঙে।
একটা ছেলে খুব নীরবে একা একাই ভাবে
প্রেম হারিয়ে একটা মেয়ে বুকের ভিতর কাঁদে,
কেউ জানেনা বুকটা ফাঁকা প্রেমের কষ্টে পোড়ে
এআই হাসি হাসছে সবে—যন্ত্র দানব হাতে।
এখন দেখি সাদা-শরৎ চুলের ফাঁকে ফাঁকে—
ত্বকের ভাঁজে লিখছে নিশি ঝরা পাতার বুকে;
নবান্নতে আসবে ফিরে খড় পোড়ানোর ঘ্রাণে,
হারা যৌবন কাঁদে এখন প্রেমের বারো মাসে!
নাই দরদী নেই মিনতি—বারতি ইগুর ভারে,
প্রেমের কথা বললে তারে সন্দেহ রোগ ধরে;
পাতা কাটায় লিখে যেমন গুগল বিশ্ব পড়ে,
হিজিবিজি-ই আঁকছে মিছু চ্যাট জিপিটি ধরে!
লিখছে দ্যাখো হাজার কবি রূপের বাংলাদেশে:
অনেক নদী মরেই গেছে দখলবাজের হাতে,
কেউ ধরেছে কেউ মেরেছে শাসন-বিধির ঘারে
দেশটা শুধু চেয়েই থাকে দেশপ্রেমিকের তরে।
একলা কাঁদে অনাথ পাখি শূন্য বাসর রাতে
কাঁপছে নিশি শিশির ভ্রূণ প্রেমের তীব্র ঘ্রাণে!
নতুন কুঁড়ি মেলছে ডানা ঝরা পাতার ভিড়ে,
লাল-সবুজে হাসছে শিশু নিশিভোরের কোলে!
খুব নীরবে তারা যেমন আকাশ ভরা রাতে—
তুমি এমন জ্যোতির কণা জ্বলবে আমার বুকে,
আয়না জলে—চাঁদের মতো তোমার ছবি ভাসে
লিখে গেলাম প্রেমের আখর বাংলাদেশের বুকে।
———————© প্রাকৃতজ শামিমরুমি টিটন