
আবদুল বাকী মিলন, মনোহরগঞ্জ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক সাথে অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে জমির খাজনা খারিজসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মনোহরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা আক্তারকে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল বদলি করা হয়। এরপর থেকে এ পদটি শূন্য রয়েছে। ওই সময় থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পর্যায়ক্রমে তৎকালীন ইউএনও গাজালা পারভীন রুহি এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু চলতি বছরের ২৮ আগস্ট গাজালা পারভীন রুহি বদলি হয়ে মনোহরগঞ্জ ত্যাগ করলে ইউএনও পদটিও খালি হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসিল্যান্ড না থাকা এবং বর্তমানে ইউএনও পদ খালি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে।
বিশেষ করে ভূমি অফিসে জমির খাজনা খারিজ, নামজারি ও সংশ্লিষ্ট কাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ভূমি অফিসে খাজনা খারিজ করতে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, খারিজ শেষ করে জমি বিক্রির মাধ্যমে মেয়ের বিয়ে ও পারিবারিক খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু এসিল্যান্ড না থাকায় তিনি কাজটি সম্পন্ন করতে পারছেন না।
আজ রোববার সরজমিন উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, অফিস খোলা থাকলেও অনেক দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই। প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি ইউএনও অনুপস্থিত থাকায় কর্মচারীদের মধ্যে গাফিলতির প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজি আকতার বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ইউএনও এবং এসিল্যান্ড নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ইউএনও এবং এসিল্যান্ড পদে কর্মকর্তা নিয়োগ ও কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করে প্রশাসনিক সেবা স্বাভাবিক করা হোক।