চোখের কোটরে সিক্ত অনু দিলাম প্রেম তোমায়,
তুমি শ্রেয়শীর প্রিয়তম বুক পকেটে রেখো আমায়।
কপালের টিপ জুড়ে তোমার আলিঙ্গন বসন্ত বাতাসে
বীভৎস অন্তরে অন্তিম দহনে চির অমর নিঃশ্বাসে।
শূন্যতার চাদরে জড়ানো দেহ, ভাঙা পাঁজরের গান,
তুমিহীনা মরুভূমিতে গোধূলি লুটায় তপ্ত হে প্রাণ।
রক্তিম ক্ষতে লেপ্টে আছে তোমার দেওয়া প্রেম বিষ,
মৃত্যুর ওপারেও প্রতিধ্বনিত হবে চির অহর্নিশ।
কালান্তরের খেয়ায় ভাসি আমি এক একাকী নাবিক,
তোমার ওই দুচোখে হারিয়ে চিনেছি নিজের দিক।
বিলীন হই যদি মহাকালের এই নির্মম মহোৎসবে,
যেনো প্রতিটি ধূলিকণা শুধু তোমাকেই ডেকে যাবে।
মজ্জার গভীরে চুইয়ে পড়ে কৃষ্ণগহ্বরের তীব্র হাহাকার,
তুমিবিনা এক আদিম ব্যাধি, কোনো নিরাময় নেই যার।
পাঁজরের খাঁচায় যেখানে শুকিয়ে গেছে রক্তের শেষ কণা,
সেখানেও খোদাই করা আছে এক নিষিদ্ধ উপাসনা।
মহাকালের জঠরে গলিত লাভার মতো পুড়ছে এই অস্তিত্ব,
ধ্বংসের ওপারে দাঁড়িয়েও আমি খুঁজছি তোমারই কৃতিত্ব।
শূন্যের সাথে শূন্যের যে মৈথুন, যে নিঃশব্দ চিৎকার—
আমি সেই চিতাভস্ম, যেখানে তুমিই একমাত্র অধিকার।