
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
একটি নক্ষত্রের পতন হলো। প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে গতরাত আনুমানিক ১:৩০টার দিকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর গোটা জীবনের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর গুনাহখাতা ক্ষমা করুন এবং তাঁকে জান্নাতের আ’লা দারাজাহ দান করুন। আমীন।
যৌবনে হাতে গোনা যে দু-চারজন আল্লাহর বান্দাকে দেখে দ্বীনি আন্দোলনের পথে হাঁটা শিখেছিলাম, মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী রাহিমাহুল্লাহ তাঁদের অন্যতম। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁকে দ্বীনি উস্তাদ হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। দ্বীনের ব্যাপারে তাঁর গভীর জ্ঞান, দূরদৃষ্টি, সাংগঠনিক যোগ্যতা এবং সর্বোপরি ‘দাঈ ইলাল্লাহ’ হিসেবে তিনি আমাদের কাছে একান্ত অনুকরণীয় এক মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
তাঁর বিচরণক্ষেত্র ছিল পুরো সিলেট বিভাগজুড়ে। এক নামে তাঁর সমসাময়িক সবাই তাঁকে চিনতেন। এমনকি তাঁর আদর্শিক প্রতিপক্ষরাও তাঁকে অন্তর থেকে সম্মান করতেন। ফ্যাসিস্ট আমলে তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হলে, তাঁর চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে খোদ শাসকদলের অনেক স্থানীয় নেতাও সেই অপকর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। একজন রাজনৈতিক নেতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কতটা শক্তিশালী হলে বিপদের সময় আপন-পর সবাই পাশে দাঁড়ায়, তিনি ছিলেন তার উজ্জ্বল প্রমাণ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুঃসময়ে যে কয়জন মানুষকে বিভিন্ন সময় ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়েছে, তিনি তাঁদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব। দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাওয়ার বহু লোভনীয় প্রস্তাব থকা সত্ত্বেও তিনি কখনো তা গ্রহণ করেননি। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তীব্র দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এই মাটিতেই লড়াই করে গেছেন। তাঁর এই বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে আজীবন অনুপ্রাণিত করবে।
ধৈর্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক: অসুস্থ হওয়ার পর দীর্ঘ কয়েক বছর কেটে গেলেও তিনি কখনো অধৈর্য হননি, হিম্মত হারাননি। বরং তিনি সব সময় আল্লাহ তা’আলার ওপর গভীর নির্ভরশীলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন অনেক শিক্ষা, অনুপ্রেরণা এবং বিপদে ধৈর্য ধারণের ছবক।
দোয়া করি, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর নতুন এই সফরকে নিরাপদ ও বরকতময় করুন। তাঁকে মাগফিরাতের চাদরে ঢেকে দিন এবং আবরার (নেককার) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।
মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর শোকসন্তপ্ত স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, আপনজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে এই মহা শোক কাটিয়ে ওঠার জন্য ‘সবরে জামিল’ দান করুন। আমীন।