
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি সারা দেশে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। তবে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে অনেক জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করায় ক্ষুব্ধ দলের হাইকমান্ড। শীর্ষ নেতাদের মতে, এতে সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
সূত্র জানায়, জামায়াত মনে করছিল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার কাঠামোর নির্বাচন দেবে সরকার। তবে সরকার বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এতে দলটি রুষ্ট। তারপরও তারা সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার কাঠামোর সব জায়গায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সূত্রমতে, দলের মধ্যে দফায় দফায় আলাপ-আলোচনার পর সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রার্থীরা মাঠে আছেন এবং নির্বাচনের গ্রাউন্ড ওয়ার্ক বলতে যা বোঝায়, এখন তারা তাই করছেন। উপজেলাগুলোয় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য নীরবে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড-মেম্বর পর্যন্তও প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করছে জামায়াত।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের প্রার্থী বাছাই অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। দু-এক জায়গায় হয়তো এখনো হয়নি। যে কোনো সময় চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের সব কাঠামোর নির্বাচন একসঙ্গে হবে না। এটি চলমান ইস্যু। একের পর এক নির্বাচন হতে থাকবে। অনেক সময় শেষ মুহূর্তেও প্রার্থী পরিবর্তন করতে হয়। তবে সার্বিকভাবে জামায়াত সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
হামিদুর রহমান বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, আর যাই হোক শেখ হাসিনার পথে হাঁটবে না বিএনপি। কিন্তু আমরা আশাহত, দেশের জনগণ আশাহত। বিএনপি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন না দিয়ে সর্বত্র প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে। এটা গণতন্ত্র ধ্বংসের পথ। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে যারাই অতীতে কর্তৃত্ববাদী হওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকারগুলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পরিচালনা করবেন। কিন্তু সরকার সেপথে না গিয়ে দলীয় লোকদের বিভিন্ন পর্যায়ে বড় বড় পদে বসাচ্ছে। এটা হলো ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার অপকৌশল।