
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ আর নেই। শনিবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তার এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে।
দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোক বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আজ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ইন্তেকাল করেছেন। তার এই প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। একজন আদর্শ সহধর্মিণী হিসেবে পরিবার ও সমাজে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আমি পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন যেন এই কঠিন শোক সহ্য করার ধৈর্য লাভ করেন, সেই প্রার্থনা করছি।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, দিলারা হাফিজ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে আজ দুপুরে তিনি পাড়ি জমালেন পরপারে। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক পুত্র, এক কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, মরহুমা দিলারা হাফিজের মরদেহ আগামীকাল রোববার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষ বিমানে দেশে নিয়ে আসা হবে। এরপর তার দাফন ও জানাজার জন্য বিশেষ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে:
১. প্রথম জানাজা: আগামী সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে মরহুমার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
২. দ্বিতীয় জানাজা: ওই দিনই জোহরের নামাজের পর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
৩. দাফন: দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে মরহুমাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
দিলারা হাফিজ কেবল একজন স্পিকারের সহধর্মিণীই ছিলেন না, বরং বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামরিক জীবনের চড়াই-উতরাইয়ে তিনি ছিলেন ছায়াসঙ্গী। তার মার্জিত স্বভাব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি পরিচিত মহলে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্রী ছিলেন।