
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও হোমিও চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আনোয়ার উল্লাহ শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর একজন রুকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সোমবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে পশ্চিম রাজাবাজারে তার বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে দুর্বৃত্তরা। এরপর আনোয়ার উল্লাহর মুখে কাপড় গুঁজে ও শ্বাসরোধ করে বাসায় থাকা নগদ পাঁচ লাখ টাকাসহ ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় তারা।
মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনদের দাবি, এই ঘটনা কেবল চুরিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক।
তিনি জানান, রাতে ঘরের গ্রিল কেটে একদল চোর প্রবেশ করে। এ সময় আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। চোর চক্র তাদের দুজনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আনোয়ার উল্লাহর মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার জানান, আনোয়ার উল্লাহ একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ মেয়ে ও ১ ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
এক যৌথ শোকবাণীতে তারা বলেন, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তিনি একজন সমাজসেবক ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা একজন নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধাকে হারালাম। নেতৃদ্বয় অবিলম্বে দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।