
ডিগ্রি-জীবন? এ তো কর্কট-ভোজের আসর,
এখানে বন্ধুত্ব নয়, স্রেফ সহপাঠ-সাজর।
হাতে হাত, সে তো ফোটোকপির খোঁজে,
কাছে আসা, সেটা অ্যাসাইনমেন্টের বোঝে।
পরীক্ষা শেষে যদি কোনোদিন পথে হয় দেখা,
চেনা-চেনা মুখ, তবু ভীষণভাবে অচেনা।
নামের পাশে ‘বন্ধু’ সে তো স্বার্থের লাগি মাত্র,
প্রয়োজন ফুরোলে ভেতরের অসারতা গোত্র।
বন্ধুত্ব নয়, এ যেন চুক্তি-নিবন্ধন, জানি,
ডিগ্রি-জীবন? বন্ধুদের শ্মশান-ভূমি মানি।
ডিগ্রি জীবন মরীচিকা আর বুনো উল্লাস বটে,
যেখানে সখ্যতা বাঁচে এক কর্পোরেট চুক্তি-ঘাটে।
ডিগ্রি-জীবন? এক স্বার্থান্বেষী রঙ্গমঞ্চ যেন,
এখানে হৃদয়ের লেনদেন হয় না তো কভু।
হয় শুধু প্রাজ্ঞ হিসাব, সুবিধাবাদী সখ্যতা;
ভবিষ্যতের অঙ্কে মাপে সবাই বন্ধুত্বের আয়ু।
একই বেঞ্চে সহাবস্থান এ তো দৈব সংযোগ শুধু,
ভিতরে ভিতরে চলে ঈর্ষার সুপ্ত কালো যাদু।
ডিগ্রি লাইফে ‘বন্ধুত্ব’ এক অর্থহীন ব্যঞ্জনা,
যা হয় তা কেবলই ক্ষণস্থায়ী পরিচিতি-স্বজন।
কালের আবর্তনে সকলেই হবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ,
স্বার্থের জীয়নকাঠি শুধু জ্বালিয়ে রাখে প্রদীপ।
অস্থায়ী এই বাঁধন, শেষে কেবলই শূন্য ফাঁকি,
জীবনের খাতায় শুধু সফলতার হিসাবটি আঁকি।