
এম,নুরুননবী চৌধুরী সেলিম, স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লা-৯ আসনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলার সভাপতি মো. আবুল কালাম। লাকসাম-মনোহরগঞ্জর এ আসনটিতে জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই ভূমিধস জয় পেয়েছেন মোঃ আবুল কালাম এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসনে মোট ভোটার ৪,৭৮,৫৩৫জন। ভোটগ্রহণ শেষে আবুল কালাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দীকি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৬১ ভোট পেয়েছেন। এই আসনটি টার্গেট ছিল জামায়াতের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালো ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আবুল কালাম।
স্থানীয়দের ভাষায়, ‘এ আসনে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তিনি হাঁটলে মিছিল, বসলে জনসভা’ সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যার প্রতিফলন দেখা গেছে প্রতিটি পথসভায় জনসমাগমে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবুল কালামের এ জয়ের পেছনে তার উন্নয়ন-ইমেজ। এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগেই নিজের অর্থায়নে স্কুল- কলেজ, পলিটেকনিক, মাদরাসা, মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি নিজের প্রতিষ্ঠানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন।
এ আসনের বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে অত্যন্ত শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন আবুল কালাম। দলের দুর্দিনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সোচ্চার। গত ৫ আগস্টের পর থেকে নির্বাচনমুখী তৎপরতা জোরদার করার পাশাপাশি তিনি সর্বস্তরের বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দলীয়, সাংগঠনিক ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
এ জয়কে তারা তার প্রাপ্য বলে দাবি করছেন তারা পাশাপাশি তারেক রহমানের কাছে স্থানীয়দের আবেদন দুঃসময়ের আবুল কালামকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করার।
নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নবনির্বাচিত আবুল কালাম বলেন, যারা আমার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, আমি তাদের সবার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা কয়েকদিন ধরে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আমি আগামী পাঁচ বছর কাজের মাধ্যমে তার প্রতিদান দেব। লাকসাম -মনোহরগঞ্জ উপজেলার সব সমস্যা সমাধানে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে আসেন আবুল কালাম। বিগত আওয়ামী শাসন আমলে ৫৬ টির অধিক মামলার শিকার হন তিনি। কয়েকবার কারাভোগও করেন আবুল কালাম।
২০১৮সালের নির্বাচনের আগে গোয়েন্দা সংস্থা কতৃক গুমের শিকার হন সাবেক এ ছাত্রনেতা। ছিলেন আয়না ঘরেও। রাজনীতির পাশাপাশি আবুল কালাম দেশের শীর্ষস্থানীয় চৈতি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তিনি। পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ এর সম্মিলিত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।