1. live@dailytrounkhota.com : news online : news online
  2. info@www.dailytrounkhota.com : দৈনিক তরুণ কথা :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ন

প্রবন্ধঃ সুগন্ধি ছিটাইয়া বিষ্ঠা গন্ধ ঢাকা যায়না –আব্দুল গনি ভূঁইয়া

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে
বাঙালির জীবনাচার তোষামোদ মার্কা চরিত্রের,
লোভনীয় ঢঙ্গে পরচর্চায় তুষ্ট হওয়ার স্বভাব। ঘরেবাইরে অফিস আদালতে সর্বত্র সকল কর্মকান্ডে আনুতোষিক পারিতোষিক উপরি নিয়ে দিয়ে নিজের অনুকূলে কাজ হাঁচিল করতে দারুণ ভাবে অভ্যস্ত,এককথায় ঘুষের মাধ্যমে কার্যসিদ্ধি করে অভ্যস্ত। অফিসের পিয়ন থেকে বড়কর্তা শতকরা নব্বই ভাগ মানুষেই ঘুষ নিতে এবং দিতে ভালোবাসেন। এই অন্যায্য নীতিনৈতিকতা বর্জিত লেনদেন করতে চাকুরীরত সময়ে যেমন লজ্জা সরম বোধ করেননি তেমনই অবসরে এসেও এই কাজের উৎসাহ কমে নি। কি দুর্ভাগা জাতি আমরা! স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পেরিয়ে এসে নতুন স্বাধীনতা নতুন বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন যার শ্লোগান হলো বদলে দেওয়ার সংস্কারের মাধ্যমে নতুন নীতি-নৈতিকতার সংস্কৃতি চালু করার বাংলাদেশ বিনির্মানে সকলের ঐক্যবদ্ধ হতে অঙ্গিকার আর সেখানে ঘুষ দূর্নীতি আনুতোষিক পারিতোষিক উপরি বৈষম্য নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে চর্চা করে তখন কি করে আশা করবো আমরা পরিবর্তন হতে পারবো গড়তে পারবো নতুন বাংলাদেশ। ছোট্ট একটা গল্প মনে পড়ে গেলো, গল্পটা প্রাসঙ্গিক মনে করে এই লেখার সাথে সম্পৃক্ত করলাম। একবার এক গরিব আতরের ব্যবসায়ী তার একমাত্র আদরের সুন্দরী কন্যাকে মেথরের (সুইপার) সুঠাম সুন্দর দেহের অর্থবান ছেলের কাছে বিয়ে দেয়। মেয়েটা সুন্দর স্বামী পেয়ে হাসিখুশী মনে স্বামীর সাথে শশুর বাড়ী যায়। শশুর বাড়ীতে এসেই ধীরে ধীরে সে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঠিকমত খাওয়াদাওয়া ঘুম নিদ্রা হয় না, স্বামীর বাড়ীর কাউকেই এই বিষয়ে বলেন না। নিয়মিত সংসারের কাজকর্ম দেহের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। কিছুদিন পরে মেয়েটার বাবা আসলেন এবং মেয়েটার শারীরিক অবনতি দেখে মনে মনে ব্যথিত হলেন, ভাবলেন শশুর বাড়ীতে মেয়েটা সুখে শান্তিতে নেই। বাবা-র মন বেদনায় ব্যথিত হল ভারাক্রান্ত হৃদয়ে গোপনে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলো, মা’ তোর শরীরটা খুবই খারাপ দেখাচ্ছে তুই কি ঠিকঠাক মত খাওয়াদাওয়া করিস না? মেয়ে খিলখিলিয়ে হেসে বলে, না বাবা আমার কিচ্ছু হয়নি আমি অনেক সুখে আছি ওরা সবাই আমাকে খুব আদর করে। আর শরীর ও কিছুনা ঠিক হয়ে যাবে, আমার কিচ্ছু হয়নি তুমি শুধু শুধু চিন্তা করোনা। বাবা-র মন কিছুতেই শান্তি পাচ্ছিল না মনঃক্ষুণ্ন ভগ্ন হৃদয়ে বাড়ী ফিরে এলেন, বেশ কিছুদিন পরে আবার মেয়েকে দেখতে বেয়াই বাড়ীতে গেলেন। এবার যেয়ে দেখে মেয়ে তার কি নাদুসনুদুস চকচকে নিখুঁত শরীরের হয়ে উঠেছে। বাবা খুশিতে টগবগ হাস্যোজ্জ্বল নয়নে মেয়ের দিকে এগিয়ে গিয়ে আদর সোহাগ করে বলে মা তোকে দেখে এবার আমি চিন্তামুক্ত হলাম এবার বুঝি তোর মনে সুখ ধরেছে। বাবার কথা শুনে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে ম্লানমুখে একগাল হেঁসে বললেন বাবা তুমি চিন্তা করোনা এখন আমার সব সয়ে গেছে এখন আর আগের মত লাগে না। ধপাস করে বাবার কলিজায় টান পড়ে গেল, উল্টাপাল্টা হাজারো ঘৃণা কষ্ট নিমিষেই মনে জেগে উঠলো কাঁদো কাঁদো মনে কাতর সুরে বলে মা’ কি সয়ে গেল যা এতোদিন তোকে সহিতে কষ্ট হয়েছে আমাকে সব খুলে বল মা’ আমাকে সবকিছু খুলে বল। মেয়েটা বুঝতে পেরেছে বাবার মনে অনেক কষ্ট, ঘটনা বুঝিয়ে বলতেই হবে। চঞ্চলা হাসিখুশী সেই আগের মতো মেয়েটা বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বললেন, বাবা আমার কিচ্ছু হয় নি, এই যে শশুর বাড়ী স্বামী শাশুড়ী দেবর-ননদ সব্বাই খুব ভালোমানুষ আমার প্রতি তাদের আদর যত্নের কোন কুমতি নেই। তবে একটা কঠিন সমস্যা ছিল যা আমি কোন মতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। তা হলো ‘ মলমূত্রের গন্ধ ‘। যান বাবা ওরা সবাই শহরের মলমূ পরিস্কারের কাজ করে গৃহে আসে, ওদের গায়ে শুধুই মলের গন্ধ। যদিওবা কাজ শেষে ঘরে এসে সুগন্ধি সাবান দিয়ে পরিষ্কার-পরিছন্ন হয়ে ঘরের ভেতর বাহিরে নিজেদের শরীরে আঁতর গোলাপ সুগন্ধি ছিটাইয়া গৃহে নিবাস করে তবুও কেমন যেন সারাক্ষণ ঘরের ভেতর আমি শুধু পায়খানার গন্ধ পাই। জান বাবা প্রথমপ্রথম এই ঘরে আমি খাওয়াদাওয়া দূরের কথা শ্বাসকষ্ট পেয়েছি। মনে হয়েছে এটা আমার জন্য দোজখখানা, আমি কোথায় আসলাম এই পরিবেশে আমি কেমন করে কাটাবো, ইত্যাদি ইত্যাদি যা কোন অবস্থাতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। সেই বার তুমি যখন আসলে তখন কিন্তু আমার শরীরে অনেকটা সয়ে আসছিলো তা-ই তোমাকে কিচ্ছু বলিনি আর এখন সব সহ্য হয়ে গেছে এখন আর সেই আগের মত পায়খানার গন্ধ পাইনা। দেখছো না আমার শরীর আগের চেয়ে কত্তো ভালো। বাবা নির্বাক দৃষ্টিতে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে মেয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছে কি ভুলই না করেছে সে! সারাজীবন সুগন্ধি আতরের ব্যবসায়ী হয়েও কি করে (সুইপারের) মেথরের ঘরে কন্যা দান করলেন। মেয়েটি সুগন্ধি জীবন ছেড়ে দুর্গন্ধ জীবন সহ্য করতে হবে। কারণ, মেথরের গায়ে দুর্গন্ধ বয়ে বেড়াবেই আর আতর ব্যাপারই সুগন্ধ ছড়াবেই। প্রবন্ধের শুরুতে বাঙ্গালির জীবনাচার নিয়ে কটাক্ষ করে যে লেখাটি উপস্থাপন করতে চাইছি তা এই গল্পের শেষের কথা গুলোর মত। যাদের নৈতিকতা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অর্জন হলো দুর্নীতি মিথ্যার জোরজুলুম লুটপাট অবিচার ঘুষ আনুতোষিক পারিতোষিক উপরি দিয়ে নিয়ে টাকার পাহাড় ও ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজেকে বিলাসিতার মাঝে ডুবিয়ে রাখা, যাদের কোন জাতিগত লজ্জার অভাব তারা যতোই আতর গোলাপ চন্দন ব্যবহার করুক না কেন তাদের গায়ে বিষ্ঠা জলের দুর্গন্ধ ছড়াবেই। আমাদের রাষ্ট্রের কোষাগারে সঞ্চিত অর্থ জনগণের করের টাকা। এ-ই টাকা খরচ করতে জনগণের কাছে পরিপূর্ণ দায়বদ্ধ প্রজাতন্ত্রের শাসকরা। যথাযোগ্য ন্যায্য ও ন্যায় সঙ্গত প্রয়োজনে এই রাজ কোষাগারের অর্থ ব্যয় করা শাসকদের নৈতিক গুরুদায়িত্ব। একটি টাকাও যেন অনর্থক অনুচিত এবং অন্যায় ভাবে খরচ না হয় তার সঠিকভাবে তুলে ধরতে ও জবাবদিহিতা করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে কি দেখছি? সম্পূর্ণ বিপরীত কর্মকাণ্ড চালিয়ে জনগণের টাকা লুটপাট হচ্ছে! ছোট্ট একটি সম্ভাব্য উদাহরণ দিয়ে লেখাটা সীমানা টেনে দিতে চাই তা হলো আমাদের রাষ্ট্রীয় সাধারণ নির্বাচন আয়োজন। এর গ্রহণযোগ্যতা নিরিক্ষার নিমিত্তে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণ করা হয় এটি বিদেশনীতির রাজনৈতিক শিষ্টাচার। পৃথিবীর বহু সংগঠন আছে যারা গনতন্ত্রের সুরক্ষা সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রতিটি দেশে পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকেন। তাঁরা তাদের সাংগঠনিক খরচে পৃথিবীর সকল দেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক করেন এবং একটি প্রতিবেদন দিয়ে ভালোমন্দ তুলে ধরেন। এসকল সংস্থা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বিনা পারিশ্রমিক জনবান্ধন কাজে নিয়োজিত। উনাদের কাজের জন্যে আনুতোষিক পারিতোষিক উপরি উৎসাহ উদ্দীপনা দিতে টোকেন অব লাভের মত ভালোবাসা দিতে হয় না এমনকি তারা নিতেও আগ্রহী নয়। এই না নেওয়া দেলওয়ার পেছনে অত্যন্ত গ্রহণ যোগ্য মতামত আছে তা হলো উনারা যদি কোন সুবিধাভোগী হয়ে এই কাজটি করেন তা হলে উনারা লাভবান হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার শতভাগ সম্ভাবণা থেকে যায় তখন কিন্তু উনাদের নির্বাচনের অনিয়ম দুর্বৃত্তায়ন বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে কোন অনিয়ম তুলে ধরলে গ্রহণ যোগ্যতা থাকে না। কারণ তারা সুবিধাভোগী হয়ে এমন রিপোর্ট বা সুপারিশ দিয়েছেন বলে বিবেচ্য হবে। কাজেই এই ধরনের কাজে উৎসাহ দিতে যদি কোন রাষ্ট্র তার নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় আইনি সমর্থন করে অগ্রীম ঘোষণা দিয়ে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণ করেন যে আপনারা আসুন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করুন আমরা আপনাদেরকে থাকা খাওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে আগ্রহী তা হলে ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়? নিশ্চয় অনৈতিক কর্মকাণ্ড সুবিধাভোগী হতে রাষ্ট্রের জনগণের টাকা তসরুপ করার জন্য আইনবহির্ভূত কাজ। আমরা এমন কাজকে না বলি এবং ঘৃণা করি। পরিশেষে কবির কথায় বলতে হয়, কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না, সুগন্ধি ছিটাইয়া বিষ্ঠার গন্ধ ঢাকা যায় না। আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই, নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি বলে সকল কিছুর সংস্কার করে একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ চাই, কিন্তু বাঙালির জীবনাচার মনমানসিকতা ও চরিত্র বদলাইব কি করে সেইটা কি চাই?
বনশ্রী,, ঢাকা।
০৭-০১-২০২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট