
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বেশির ভাগ কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজে আসছে না সরকারি খালগুলো। পানি নিষ্কাশন করতে না পারায় এসব জমিতে বন্ধ রয়েছে কৃষি আবাদ। এতে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের ২০ গ্রামের কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ১০ হাজার ২৯৫ হেক্টর। অথচ এ বছর আউশ ধানের চাষ হয়েছে মাত্র চার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আবার তিন হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ৬০ হেক্টর জমিতে বোনা আমন চাষ হলেও এর ৫০ শতাংশই জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, এলাকার কৃষক প্রধানত বোরো চাষের ওপর নির্ভরশীল।কিন্তু সেই বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলাবদ্ধতা। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে বোরো ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বীজতলায় রয়েছে পানি। জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত ছয় মাসের অধিকাংশ সময় এখানকার ফসলি মাঠ থাকে জলাবদ্ধ।
সরেজমিনে উপজেলার খিলা, বাইশগাঁও, নোয়াগাঁও, মৈশাতুয়া, নাথেরপেটুয়া, লক্ষ্মণপুর, বুরপৃষ্ঠ, উত্তরহাওলা, হাসনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলাবদ্ধ।
নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক শাহ পরান বলেন, এই মাঠে জলাবদ্ধতায় আটকে আছি আমরা। কৃষি কাজ করা যাচ্ছে না জমিতে পানি আটকে থাকার কারণে। খালের মধ্য দিয়ে আগে পানি নামলেও এখন আর পানি নামে না। এ কারণে আমরা জলাবদ্ধতার মধ্যে পড়েছি।
বুরপৃষ্ঠ গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এই মাঠের পানি নামতেছে না, আমাদের খুব ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বোরো বীজ ফেলতে পারতেছি না। এই পানির কারণে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। পানি নামাবার জন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।’
নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম বলেন, ‘আগের পুরনো যত নালা ছিল, সব এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কালভার্ট দেওয়ার কথা ছিল, কালভার্ট দেয়নি। সরকারি যে নালা, নালার ওপর বাড়িঘর তুলে রাখছে। এ কারণে পানি যেতেও পারে না, আবার আসতেও পারে না। প্রয়োজনের তুলনায় স্লুসগেইট অনেক ছোট। যখন পানির প্রয়োজন তখন তারা পানি ছেড়ে দেয়। আবার যখন পানি ছাড়তে হবে তখন তারা স্লুইসগেইট আটকে দেয়। চৈত্র মাসে যখন পানির প্রয়োজন হয়, তখন তারা স্লুইসগেইট বন্ধ করে দেয়। টাকা দিলে তারপর খুলে দেয়।’
মনোহরগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার তুষার বলেন, আমরা এখানে বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। তাই বোরোর বীজতলা প্রস্তুত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে বেশ কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে কৃষক বীজতলা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়ছে। বীজতলা প্রস্তুতের তৈরির যে উপযোগী জায়গাটা সেটা ঠিকভাবে পাচ্ছে না। কারণএখানে ছোট খাল বা কালভার্টগুলোর সামনে বেরিকেড দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করায় কৃষক জমি থেকে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজালা পারভীন রুহি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’