
খুঁজেছি তোমায় এতদিন ধরে, কোন দেশে ছিলে তুমি?
তুমি কি জানো না, এ হৃদয় ছিল তপ্ত চাতক ভূমি
খুঁজেছি তোমায় শহরে নগরে জন্মান্তর ঘুরে
পাইনি কোথাও শুধু হাহাকার ছিল এই বুক জুড়ে।
অবশেষে আমি পেলাম তোমায়
পাশেই আমার গ্রামে
হলুদ শাড়ির কবিতার পাশে কৃষ্ণচুড়ার খামে
সেদিন সেখানে মেলা বসেছিল কোকিলের কুহু তানে
তোমায় পেলাম নব বসন্তে জীবনের গানে গানে।
এই বসন্তে লালে লাল হল যত অরণ্য আছে
তবু এ হৃদয় নতজানু থাক তোমার পায়ের কাছে।
সেই কবে কোন জন্মের আগে হয়েছিল পরিচয়
গভীর প্রেমের বুক ভরা ঘামে ছিল হারানোর ভয়।
তারপর এল ভাঙা চৈত্রের পাতা ঝরা সেই দিন
যত পাতা ছিল সব ঝরে গিয়ে বসন্ত হল ক্ষীণ।
শুকনো পাতাকে দুই পায়ে দলে দূরে চলে গেলে তুমি
জন্মে জন্মে তৃষ্ণা এঁকেছে, যত আছে মরুভূমি।
সেই হতে আমি পথের পথিক, একাকী এ পথ চলা
কবিতার গায়ে বিরহের পাঠে তোমার কথাই বলা।
যত বসন্ত হেঁটে গেছে এই পথের দুধার ঘেঁষে
প্রতি জন্মের আবীরের ধুলো চোখের নদীতে মেশে।
এই বসন্তে কি যে হয়ে গেল বাসন্তীতলা জুড়ে
তোমাকে পেলাম সাত সাগর আর কবিতার দেশ ঘুরে।
গায়ে ছোঁয়া ছিল শাল্বনী পাঠ, সবুজ মাঠের স্তবে
এই বসন্তে দেখা হয়ে গেল , প্রাণভরা উৎসবে।