
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বিশেষ কোনো সুবিধা বা ‘এক্সট্রা প্রিভিলেজ’ দিচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমানে দেশে শতভাগ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বিরাজ করছে।
রোববার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
শফিকুল আলম জানান, আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে তারা একটি বড় এবং শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠাবেন।
প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় ইইউ কোনো পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠায়নি। তবে এবার তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বড় পরিসরে কাজ করতে চায়।
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া। বিশেষ করে পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসররা বিদেশ থেকে বা পর্দার আড়াল থেকে ব্যাপক হারে ‘মিসইনফরমেশন’ বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে এবং সাইবার জগতের গুজব মোকাবিলায় বিশেষ সেল কাজ করছে।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সন্তুষ্ট বলে জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যার প্রেক্ষাপটে মাঝেমধ্যে দু-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তবে সরকার প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছেন যে, একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে ইসি এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি নরসিংদীতে মনি চক্রবর্তী নামের এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড মূলত পারিবারিক কলহের জেরে ঘটেছে। কিন্তু একটি মহল একে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিও যাচাই-বাছাই না করে এ নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায় এমন কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে তথ্য যাচাই না করে মন্তব্য করবেন না। এটি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
ব্রিফিংয়ের মূল সুর ছিল স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা। সরকার যে কেবল একটি নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিনির্মাণে কাজ করছে, প্রেস সচিবের বক্তব্যে সেই ইঙ্গিতই ফুটে উঠেছে। শফিকুল আলম আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাংলাদেশ একটি মডেল নির্বাচন দেখতে পাবে।