1. live@dailytrounkhota.com : news online : news online
  2. info@www.dailytrounkhota.com : দৈনিক তরুণ কথা :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ঝলম উত্তর ইউনিয়নকে একটি “মডেল ইউনিয়ন” হিসেব গড়তে চান আবদুল মান্নান সুমন মনোহরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। মনোহরগঞ্জের লক্ষণপুর ইউনিয়ন পরিষদে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা সমাবেশের মাধ্যমে ২য় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজের ২০ কোটি টাকার সম্পদ দখলে ভূমি দস্যুদের উৎসব! মনোহরগঞ্জে ২৪তম ইউএনও হিসেবে রিফাত জাহানের যোগদান মনোহরগঞ্জে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে ছাত্রশিবির বর্ণাঢ্য আয়োজনে মনোহরগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত মনোহরগঞ্জে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মনোহরগঞ্জের মৈশাতুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মাছের পোনা অবমুক্ত

মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন অন্যতম সহযোগি ছিলেন আবুল হোসেন চৌধুরী

মোঃ হুমায়ূন কবির মানিক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ জুন, ২০২৪
  • ৩৯৭ বার পড়া হয়েছে

মোঃ হুমায়ুন কবির মানিকঃ

চলছিল ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ, শত্রুর হাত থেকে মাতৃভূমি রক্ষার সংগ্রাম, দেশের ক্রান্তিকালে দেশপ্রেমে উদ্ধুব্ধ হয়ে যখন সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন, তখন অনেকের মত ঘর ছেড়ে যিনি পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় এবং যিনি ছিলেন একাধারে মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সহযোগী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শ্রমিক নেতা ও স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন কাছের মানুষ, তিনি আর কেউ নন মৃত আবুল হোসেন চৌধুরী, কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলা শরীফপুর গ্রামের গর্বিত কৃতি সন্তান। তাঁর মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ইতিহাস শুনা যায় এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের মুখে। তারা জানায়, আবুল হোসেন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুনার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে পায়ে হেঁটে গিয়ে মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম বলেন দেশে যখন পাকিস্তানি হায়নাদের সাথে যুদ্ধ চলে তখন আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করি। যখন গ্রামের বাড়িতে আসতাম তখন আবুল হোসেন চৌধুরী ভাইকে দেখতাম মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন এবং আমার সাথে দেখা হলে বলতেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার ও পাকিস্তানিদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে দিকনির্দেশনা দিতেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জয়নাল আবদিন কাঞ্চন বলেন আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল ইসলাম আমি আমার বাবার মুখ থেকে আবুল হোসেন চৌধুরী সাহেবের অনেক কথা শুনেছি। আবুল হোসেন চৌধুরী সাহেব আমার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন এবং আমার বাবা পাকিস্তানি হায়েনাদের হাত থেকে দেশ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আবুল হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন চৌধুরী বলেন , আবুল হোসেন চৌধুরী আমার বড় ভাই। পাকিস্তানি হানাদের হাত থেকে দেশ বাঁচাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে ভাষণের ডাক দেন। দেশে যুদ্ধ শুরু হলো। যুদ্ধ  চলাকালে চট্টগ্রাম এ.কে খান টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক নেতা ছিলেন আমার বড় ভাই আবুল হোসেন চৌধুরী। তখন আমাকে মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করার জন্য সাহস দেয় ও উজ্জীবিত করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ চলে এবং দেশকে হায়নাদের হাত থেকে রক্ষা করি। সেই ডাকের সময় আমার ভাই আবুল হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম টেক্সটাইল মিলের সাধারণ সম্পাদক ও একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে শ্রমিকদের থেকে ৭ লাখ টাকা চাঁদা উঠিয়ে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে তোফায়েল আহমেদের সামনে বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন। আমরা পায়ে হেঁটে ভাইয়ের নেতৃত্বে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে যাই। পরে ১৯৭২ সালে আমার ভাই  বঙ্গবন্ধুকে লাকসাম জনসভায় আনেন। আমার ভাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ভালোবাসতেন এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে সব সময় জীবন বাজি রেখে সাড়া দিতেন। “আল্লাহ তাআলা আমার ভাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক”

স্থানীয় ওয়ালী খান সুমন বলেন, আমরা আমাদের বাবা চাচাদের মুখ থেকে আবুল হোসেন চৌধুরী সাহেবের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবদানের কথা শুনেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এলাকার তরুণ দামাল ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধ অংশগ্রহণ করার জন্য অনেক উৎসাহ ও উজ্জীবিত করেতেন। দেশে যুদ্ধ চলাকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার কথাও শুনেছি। আজ একজন সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা সহায়কের পরিবার খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা ও দেশমাতা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আপনি এই সংগঠকের পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দিবেন ও হস্তক্ষেপ করবেন।

আবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে কামাল হোসেন চৌধুরী সোহাগ বলেন, আবুল হোসেন চৌধুরী ছিলেন আমার বাবা আমি তখন ছোট আমরা স্বপরিবারে তখন চট্টগ্রামে থাকতাম। আমি দেখেছি আমার বাবা অনেক শ্রমিকদের নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সহযোগিতা করতেন। এমনও দেখেছি আমার মায়ের অনেক গহনা বিক্রি করে, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন।  গহনা বিক্রি করতে মা বারণ করলে মা’কে বলতেন বঙ্গবন্ধু আমাদের নেতা, তিনি ডাক দিয়েছেন পাক বাহিনীদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে হবে। আগে দেশ বাঁচুক পরে তোমার গহনা হবে। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলো ১৯৭১ সালে। এবং ১৯৭২ সালে আমার বাবার নেতৃত্বে  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  মুজিবুর রহমানকে তৎকালীন উপজেলা লাকসামে আনেন। এবং দেশ স্বাধীনের ৭ বছর পর ১৯৭৮ সালে বাবা চট্টগ্রামে মারা যান। পরে আমরা ১৯৭৯ সালে গ্রামের বাড়ি চলে আসি। বাবা মারা যাওয়ার ২ বছর পর ভোলার সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ আমাদের গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাবার কবর জিয়ারত করেন। আমি তখন বাবার কবরের পাশে ছিলাম। আমার পরিচয় নিলো আমাকে আদর করলেন এবং আমাকে ৫০০ টাকা দেন। আমি বাড়ি এসে মাকে বললাম  ঢাকা থেকে লোক এসেছে আব্বার কবর জিয়ারত করছেন উনি আমাকে ৫০০ টাকা দিছেন। মা বলল ওনাদের বাড়ির দিকে নিয়ে আসো পরে আমি গিয়ে উনাদের পাই নাই। আমি যেতে যেতে উনারা গাড়িতে উঠে চলে যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট