
ডেস্ক রিপোর্ট : নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিকেই তৃণমূলের অনেকেই ভালোভাবে চেনেন না। তাঁদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, বিগত দিনের ত্যাগ, পরিশ্রম ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে যারা সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন কোথায়? এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া ও এর পেছনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কমিটির গঠন ও প্রক্রিয়া দেখে অনেকের মতোই ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে আমরা নতুন রাজনীতির পথে এগিয়েছি, সেই সংস্কৃতির ছায়া যদি নতুন সংগঠনেও ফিরে আসে, তাহলে পরিবর্তনের অঙ্গীকারের মূল্য কোথায়?
আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—মনোহরগঞ্জে এনএসপিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার মতো এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত কীসের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে? কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোন মানদণ্ডে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে এবং এই কমিটি গঠনের পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থ বা সমঝোতা কাজ করেছে কি না—তা দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কাছে পরিষ্কারভাবে জানতে চাই।
ইতোমধ্যে সংগঠনের কয়েকজন ত্যাগী নেতাকর্মীর পদত্যাগের খবরও সামনে এসেছে। তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কেন তাঁরা পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন, তাঁদের অভিযোগগুলো কী এবং সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।
আমরা পদ চাই না, চাই আগের মূল্যায়ন। আমরা ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি চাই না, চাই যোগ্যতা, সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন। মনোহরগঞ্জ এনএসপি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা মানুষের সংগঠন। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তার জবাবদিহি অবশ্যই থাকতে হবে।
দলের কেন্দ্রীয় ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি—নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করুন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বক্তব্য শুনুন এবং স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। আমরা উত্তর চাই, জবাবদিহি চাই এবং মনোহরগঞ্জ এনএসপিতে প্রকৃত সাংগঠনিক মূল্যায়ন চাই।