মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মানুষ হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ও পৈশাশিক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সচেতন মহলের মতে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিক অবক্ষয় এবং সঠিক মানবিক শিক্ষার অভাবেই সমাজ আজ এই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এই নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গঠনের প্রাথমিক বিদ্যাপীঠগুলোই এখন অভিভাবকহীন ও রাজনীতিতে নিমজ্জিত।
এরই এক বাস্তব ও হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, মনোহরগঞ্জ উপজেলার যতগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, তার মধ্যে শিক্ষার মান এবং পরীক্ষার ফলাফলের (রেজাল্ট) দিক দিয়ে মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান বর্তমানে সর্বনিম্ন স্থানে।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়ন কিংবা তাদের নৈতিক ও চারিত্রিক গঠনের চেয়ে কেবল নিজেদের পদের লড়াই এবং স্কুল কমিটির নির্বাচন নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। একটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ ও শুদ্ধাচার শেখানোর আঁতুড়ঘর হওয়ার কথা, সেখানে শিক্ষার পরিবেশ পুরো ধ্বংসের মুখে পড়লেও তা নিয়ে শিক্ষক বা কর্মকর্তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকরা যদি শুধু নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও পদের পেছনে না ছুটে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত রাখতেন এবং তাদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে সচেতন থাকতেন, তবে সমাজ থেকে মব জাস্টিস বা অপরাধমূলক প্রবণতার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হতো।
একটি অঞ্চলের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা যখন ধ্বংসের মুখে পতিত হয়, তখন সেই সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে বাধ্য। মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।