নিজস্ব প্রতিবেদক / ঝালকাঠি:
ভোট কারচুপি ও জনগণের রায় ছিনতাই করে সংসদ সদস্য হওয়া ব্যক্তিরা কখনো একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার নৈতিক অধিকার রাখে না বলে মন্তব্য করেছেন ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের স্বতন্ত্র (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) প্রার্থী ড. ফয়জুল হক।
আজ এক বিবৃতিতে ঝালকাঠি-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (জামাল সাহেব)-এর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, "যিনি নিজে জানেন ঝালকাঠি-১ আসনের সমগ্র মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করে কীভাবে রাতের আঁধারে আমার নিশ্চিত বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তিনি আজ সংসদে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলছেন! একজন ভোট চোর ও ডাকাত কীভাবে সংসদে দাঁড়িয়ে এই দাবি করতে পারে?"
ড. ফয়জুল হক নির্বাচনের রাতের স্মৃতি চারণ করে বলেন, "দিনভর ভোট কারচুপির পরও রাত ১০টা পর্যন্ত ফলাফলে আমরা যখন বিজয়ী ছিলাম, ঠিক তখনই ওপরের নির্দেশে আমার ৬,০০০ ভোট কেটে নিয়ে এই জামাল সাহেবকে এমপি বানানো হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও বয়সের কারণে এমপির স্বাদ পাওয়ার পর তিনি জনগণের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করবেন। কিন্তু ভোট চুরি করার পরও তাঁর সেই ন্যূনতম লজ্জা বা চোখের পর্দা নেই।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "নির্বাচনের পরপরই এই ভদ্রলোক রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার সর্বস্তরের জনগণ—যারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের 'জারজ সন্তান' বলে আখ্যায়িত করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। এখন তাঁর পথের কাঁটা জামায়াতে ইসলামী। কারণ তিনি জানেন, একবার ভোট চুরি করলেও আগামীতে জনগণ আর তাঁকে সেই সুযোগ দেবে না। তাই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে খালি মাঠে আবারও এমপি হওয়ার ধান্দায় লিপ্ত হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সংসদে এলোমেলো বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হয়ে সিনিয়র নেতাদের নজর কাড়ার অপচেষ্টা করছেন।"
সংসদে তাঁকে নিয়ে করা মিথ্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে ড. ফয়জুল হক বলেন, "গতকাল সংসদে তিনি আমার একটি উক্তিকে আবারও মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অভদ্র আচরণ। এই উক্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশন যখন আমাকে নোটিশ করেছিল, তখন আমার দেওয়া জবাবে তারা সন্তুষ্ট হয়েছিল। মূলত জামাল সাহেবের মূল ব্যথা হচ্ছে, তিনি রাজাপুর-কাঁঠালিয়ার মাটি থেকে আমাকে সরিয়ে দিতে চান, যাতে কোনো দুর্বল প্রতিপক্ষকে পেয়ে খালি মাঠে গোল দেওয়া যায়। কিন্তু তাঁর সেই স্বপ্ন কোনোদিন ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে না।"
বিবৃতিতে তিনি নির্বাচনের দিনের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "নির্বাচনের দিন জামাল সাহেবের নিজ বাড়ির ইউনিয়ন বড়ইয়ায় তাঁর সরাসরি নির্দেশনায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং পুরো ইউনিয়ন ব্লক করে সমস্ত ভোট তাঁর বাক্সে নেওয়া হয়েছিল। সেই দৃশ্য সারা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। ইতিহাস সাক্ষী, জামায়াতকে যারা যখনই নিষিদ্ধ করতে চেয়েছে, তারাই বরং নিষিদ্ধ হয়ে দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এই বিনা ভোটের এমপিকেও একদিন পালিয়ে যেতে হবে।"
ড. ফয়জুল হক জানান, তাঁর ৬,০০০ ভোট চুরির বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর যে কয়েকটি আসনে মামলা চলমান, ঝালকাঠি-১ আসন তার মধ্যে অন্যতম। আজ হোক বা কাল, এই আসনে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।