লাকসাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী ও মজুমদার ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী শাজাহান মজুমদার তার ও তার ছেলেকে জড়িয়ে সম্প্রতি উত্থাপিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শাজাহান মজুমদার বলেন, অভিযোগকারী ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণার বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য, থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং আদালতে দাখিল করা অভিযোগের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লাকসাম থানায় দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সংশ্লিষ্ট কিশোরী মশার কয়েল কিনতে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। কিন্তু পরবর্তীতে অপহরণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভধারণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সিসিটিভি ফুটেজ স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সংরক্ষিত রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ওই ফুটেজে সংশ্লিষ্ট তরুণীকে তার ছোট বোনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে দেখা যায়।
এছাড়া আদালতে দাখিল করা অভিযোগে মেয়েটি আল-আমিন ইনস্টিটিউটে যাওয়ার পথে অপহরণের শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী সে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
শাজাহান মজুমদার বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। তিনি আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবেদনশীল অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। একতরফা তথ্য প্রকাশ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ব্যক্তিগত সুনাম, পারিবারিক মর্যাদা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
তবে সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত অভিযোগকারী ফারহানা মাহমুদা ঝর্ণার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।