চট্টগ্রাম ব্যুরো: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী ১৩ জুন ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশকে সফল ও জনসমুদ্রে পরিণত করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।
লিখিত বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, "দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।" গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে কয়েকটি মূল পয়েন্ট তুলে ধরা হয়:
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: দেশে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের কারণে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট: সরকারি-বেসরকারি খাতে দুর্নীতি, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহিতার সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং বাজেট-পরবর্তী মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানানো হয়।
জাতীয় স্বার্থ ও চট্টগ্রাম বন্দর: জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
সীমান্ত হত্যা ও নিরপেক্ষ প্রশাসন: সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম (কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী)
মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল (মহানগরী সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস)
মাওলানা জিয়াউল হোসাইন (মহানগরী আমীর, নেজামে ইসলাম পার্টি)
আনোয়ারুল আলম চৌধুরী (আমীর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াত)
আলাউদ্দিন সিকদার (আমীর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াত)
অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন (সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত)
আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস (মহানগরী সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি)
সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আলম (মহানগরী সভাপতি, এলডিপি)
আলাউদ্দিন আলী (মহানগরী সভাপতি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি)
মোস্তফা কামাল (মহানগরী সাংগঠনিক সম্পাদক, খেলাফত মজলিস)
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুবিনুল হক, মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মাওলানা রিদোয়ানুল হক; জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস এবং লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি মোঃ আফসার উদ্দিনসহ জোটের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দের শেষ আহ্বান: > সংবাদ সম্মেলন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণকে আগামী ১৩ জুনের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানের বিভাগীয় সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলে দলে যোগ দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।