ছাত্র রাজনীতির ‘টর্নেডো’ থেকে শুরু করে আজকের লাকসামের গণমানুষের আস্থার প্রতীক—তিনি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এই মেয়র পদপ্রার্থীকে নিয়ে এখন লাকসামের আপামর জনতার মাঝে বইছে নতুন আশার হাওয়া। দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত এবং একটি আধুনিক লাকসাম গড়তে তার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ।
বদিউল আলম সুজনকে কেন আজ সময়ের দাবিতে লাকসামের ‘নগর পিতা’ হিসেবে দেখতে চায় জনগণ? তার জীবন ও কর্মের আলোকপাত করলেই পাওয়া যায় সেই উত্তর:
১. ছাত্র আন্দোলনের সেই 'টর্নেডো' ও কারা কর্তৃপক্ষের বিস্ময়*
নব্বইয়ের দশকের ছাত্র আন্দোলনে বদিউল আলম সুজন ছিলেন এক আপসহীন ও নির্ভীক নাম। তৎকালীন স্বৈরাচার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল টর্নেডোর মতো গতিশীল।
কারা প্রাঙ্গণে বিস্ময়:* সেই সময়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে যত ছাত্র-জনতা জামিনে মুক্তি পেতেন, তাদের সবার মুখে আইনি সহায়তাকারী হিসেবে একটি নামই উচ্চারিত হতো—বদিউল আলম সুজন।
জেলার ও কর্তৃপক্ষের কৌতূহল:* একের পর এক বন্দীর মুখে এই নাম শুনতে শুনতে তৎকালীন জেলারসহ কারাকর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়—‘কে এই বদিউল আলম সুজন, যিনি রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে আইনি লড়াইয়ে ছাত্র-জনতাকে নির্বিঘ্নে মুক্ত করে আনছেন?’ পরবর্তীতে রাজনৈতিক মামলায় তিনি নিজে যখন গ্রেপ্তার হন, তখন তাকে একনজর দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন কারাকর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
২. মজলুমের বন্ধু ও কোট প্রাঙ্গণের মানবতা*
ছাত্র জীবনে বিভিন্ন আইনজীবীর মাধ্যমে অসহায় সহযোদ্ধাদের জামিন করালেও, শিক্ষাজীবন শেষে নিজেই আইন পেশায় যুক্ত হন বদিউল আলম সুজন। এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পতাকাতলে থেকে কোট প্রাঙ্গণে তিনি গড়ে তোলেন মানবতার দুর্গ।
* সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে, নিজের জীবন বাজি রেখে অসহায়, দরিদ্র এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
* কোনো আর্থিক লোভের ঊর্ধ্বে উঠে নির্ভীক চিত্তে মানুষের আইনি মুক্তি নিশ্চিত করেছেন, যা তাকে লাকসামের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে।
৩. মহামারী করোনার অকুতোভয় ত্রাতা*
যখন পুরো বিশ্ব অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের ভয়ে স্তব্ধ, মানুষ যখন আপনজনকে ফেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছিল—ঠিক তখন নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাজপথে নেমে এসেছিলেন বদিউল আলম সুজন।
* তিনি একটি নতুন সেবামূলক সংগঠন তৈরি করে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ঘরে ঘরে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন।
* লাশ দাফন থেকে শুরু করে অক্সিজেন সরবরাহ—প্রতিটি মানবিক সংকটে তিনি ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা।
৪. লাকসাম জেলা ও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের রূপকার*
বদিউল আলম সুজন শুধু একজন আইনজীবী বা রাজনীতিবিদ নন, তিনি লাকসামের সার্বিক উন্নয়নের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা।
* *উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃত্ব:* কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এবং লাকসাম জেলা বাস্তবায়ন কমিটিসহ শতাধিক সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের সাথে তার নাম ও শ্রম জড়িয়ে রয়েছে।
* *ব্যবসায়ীবান্ধব নেতৃত্ব:* লাকসামের বণিক ও ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা এবং লাকসাম শহরকে একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কোনো প্রশাসনিক পদ ছাড়াই তিনি দীর্ঘকাল ধরে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
*কেন আগামী নির্বাচনে বদিউল আলম সুজন সময়ের দাবি?*
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লাকসাম পৌরসভাকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে দিতে এবং পৌরবাসীর নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বদিউল আলম সুজনের কোনো বিকল্প নেই। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন:
* *নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা:* আগামী ৫টি বছর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একজন সৎ ও সাহসী অভিভাবক প্রয়োজন।
* *চাঁদামুক্ত ব্যবসা বাণিজ্য:* লাকসামের ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো প্রকার চাঁদা বা জুলুম ছাড়া, সুদবিহীন ও শান্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন—তার একমাত্র গ্যারান্টি বদিউল আলম সুজন।
* *সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নগরী:* লাকসামকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে ‘নগর পিতা’ হিসেবে বদিউল আলম সুজনকে জয়যুক্ত করা আজ সময়ের নৈতিক দাবি।
*চোখ*
লাকসামকে একটি মডেল ও আধুনিক জেলা শহরে রূপান্তর করতে এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আপনার মূল্যবান ভোটটি দিয়ে যোগ্যতম ব্যক্তি বদিউল আলম সুজনকে জয়যুক্ত করার সময় এসেছে। একটি সুন্দর, শান্তিময় ও সমৃদ্ধ লাকসাম উপহার দিতে তার কোনো বিকল্প নেই।
*বার্তা প্রেরক: লেখক, কবি ও সাংবাদিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।