
প্রথম শর্ত হলো অবাধ এক উচ্চারণের জন্যে আত্মত্যাগ
‘স্বাধীনতা’ এই ধ্বনি যা জিহ্বার আন্দোলন থেকে
সংক্রমিত হতে থাকে সমুদ্রস্বরের মতো গ্রাম এবং শহরে
কিন্তু ক্রমাগত রক্তচোখের দেয়ালে বাঁধা পেতে থাকে সেই উচ্চারণ
একুশ শতকেও কারাগার হয়ে ওঠে প্রবঞ্চকদের গবেষণাগার
আর বছরগুলো গড়িয়ে যায় আমার প্রতিরোধপ্রবণ বাহুর মধ্যে
আর হাজার হাজার নক্ষত্রের মতো সম্পাদিত হতে থাকে
আমার দিনপঞ্জীর প্রকাশনা-
যেখানে মৌমাছির গুঞ্জরণ আর ধানশীষের সংবাদ ও বিরল নয়
বিরল নয় নদীর কল্লোল এবং গাঙচিলের চিৎকার, কুয়াশা ভেজা
কৃষকের পায়ের শব্দ, বন্দী পিতার জন্যে অপেক্ষাতুর শিশুর
চোখের জলের নিরবচ্ছিন্ন নদী, সম্রাটদের পলায়ন, মুদি দোকানীর
হাঁক ডাক কিংবা শেয়ার বাজারের ওঠা নামাও
দ্বিতীয় শর্ত হলো বিজয় সাফল্যে ভরা সৌন্দর্যের আন্দোলন
সৌন্দর্য অর্থাৎ বসন্তের উৎসর্গ পত্রে লেখা ভালোবাসা-
যারা ফিরে এসেছে প্রতিশোধ নেবার দায় থেকে- মুক্তিযুদ্ধের
ওয়াগনে চড়ে তারা এশিয়ার উপকূলে সূর্যাস্তের জলন্ত কয়লার
সামনে দাঁড়িয়ে অনুভব করুক গুপ্ত শিকারীর সতর্কতা
দেখুক অন্ধকারে বন বেড়ালের চোখের আগুন অথবা পাঠ করুক
ক্ষার তুষারের জ্যোৎস্নায় প্লাবিত আমার কবিতা
তৃতীর শর্ত হলো খুব এক শপথের হীরে বসানো মুকুট খুঁজতে
বেরিয়ে পড়া; সোনালী লতার চুমকি বসানো পথে ট্রাফিক খরগোশের
সিগন্যাল সরিয়ে কাঠবিড়ালীর মতো গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে
অনুসন্ধান- আর তার জন্যে চাই তিতুমীর কিংবা ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগ
যাদের স্বচ্ছতোয়া চোখের ভেতর সমগ্র বাংলাদেশ স্নান সেরে শুদ্ধ হতে পারে
সত্যিকার অর্থে তৃতীয় শর্তই হলো জরদগব উত্তরাধিকার
জলন্ত জেরেনিয়ামের মতো উজ্জ্বল সারাৎসার, তামা দস্তা রুপো
আর ইস্পাতের পাতে তৈরী
ফুসফুসের মৌচাক ঘিরে আবর্তিত শর্ত সমূহ একবার বিশেষ্যে
এবং আরেকবার বিশেষণে রূপবদল করেই আমাদের পথ পেরুতে হবে
প্রস্তুতি নিতে হবে পিঁপড়ের নিঃশব্দ যাত্রার মতো, আমার বিশ্বাস
সোনা বাঁধানো মুকুটটি পাওয়া যাবে কোনো উইঢিবি
অথবা ইঁদুরের গর্তের মধ্যে এবং তখন সময় থাকবে
আশ্চর্য গোলাপী ঋতু- বসন্ত