নাটোরে জামায়াতের নারী ভোটার কর্মীদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিনে নাটোর সদর উপজেলার ছাতনি সেন্টার মোড়ে জামায়াতের নারী কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নিচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের পথরোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে নারী কর্মীদের উদ্ধার করেন।
এছাড়া একই সময়ে ছাতনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম জামায়াত নেতা আক্তারকে হুমকি দিয়ে বলেন, ওই এলাকায় দাড়িপাল্লার ব্যানার বা ফেস্টুন টানানো যাবে না। অন্যথায় তা ছিঁড়ে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে নাটোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী ব্যানার ও ফেস্টুন লাগাতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় ধানের শীষের পিভিসি ব্যানার ও ফেস্টুন বিভিন্ন স্থানে লাগানো হলেও তা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করা হয়।
জামায়াত নেতারা বলেন, নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাধা প্রদান নির্বাচন আইন, আচরণবিধি এবং মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। তারা নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দেশবাসীর সহযোগিতার মাধ্যমে নারীর মর্যাদা রক্ষা, গণতন্ত্র সংরক্ষণ ও নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানান নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাটোর–২ (সদর–নলডাঙ্গা) আসনে জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও নাটোর–২ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আতিকুল ইসলাম রাসেল, সদর উপজেলা আমীর মীর নুরুন্নবী, শহর আমীর মাওলানা রাসেদুল ইসলাম, ছাত্রশিবির জেলা সেক্রেটারি আবু সাঈদ রনিসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।