সবকিছু ঠিক থাকলে আর চার দিন অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি পূর্বপুরুষের ভিটা বগুড়ায় ফিরছেন তারেক রহমান। ফলে বগুড়ায় মানুষের মধ্যে আনন্দ যেন আকাশ ছুঁয়েছে। দেশের অন্য সব জেলার তুলনায় বগুড়ার অনুভূতি যেন আরও গভীর। কারণ, এই বগুড়াই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি। সেই বাবার উত্তরসূরি তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বগুড়ার মানুষের চোখে শুধু আনন্দ নয়; হৃদয়ে জমে আছে আশার আলো। গত ১৭ বছরের বঞ্চনা, থেমে থাকা উন্নয়ন, আর উপেক্ষার ক্ষত মুছে যাওয়ার প্রতীক্ষায় পুরো বগুড়াবাসী। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তাঁর এই বগুড়া সফর। ঢাকার বাইরে এটিই তাঁর প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। তাঁর জন্য জেলা বিএনপির কার্যালয়ে বানানো হচ্ছে নিজস্ব অফিস। সেখানে বগুড়ার স্বনামধন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলীকে দিয়ে অত্যাধুনিক ডিজাইন করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন জানান, ১১ জানুয়ারি তিনি বগুড়ায় পৌঁছে রাতযাপন করবেন। পরদিন সকাল ১০টায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত গণ দোয়ায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। গণ দোয়া শেষে তারেক রহমান শহরের সাতমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালী হয়ে মহাস্থানে হজরত শাহ সুলতান বলখি মাহি সাওয়ারের (রহ.) মাজারে যাবেন। সেখানে মাজার জিয়ারত শেষে তিনি রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়ায় এসেছিলেন। দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর তিনি আবার বগুড়ার মাটিতে পা রাখবেন। তাঁর আগমনকে ঘিরে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁকে একনজর দেখার জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন। বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, বিদেশে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামত নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন। রাষ্ট্র মেরামতের কথা তিনি প্রতিনিয়তই নতুনভাবে, নতুন আঙ্গিকে বিভিন্ন মহলে বলে যাচ্ছেন। আমরা আশা করি, মানুষ যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয়, নিশ্চয়ই তারেক রহমান বগুড়াসহ দেশের মানুষের কল্যাণে উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবেন। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, তারেক রহমান বগুড়ায় আসার খবর আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। ১৭ বছর বগুড়ায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন তাঁর হাত ধরেই বগুড়ার উন্নয়ন ঘটবে।