প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৭:১৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ৫:৩৪ এ.এম
জামায়াতের প্রতি বাড়তি জনসমর্থন ও নীরব ভোট বিপ্লবের সম্ভাবনা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। জুলাই বিপ্লবের পর দেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, তার ওপর ভর করেই দলটি আবারো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর এবার ভোটের মাঠে দাঁড়িপাল্লাকে ঘিরে যে নতুন আমেজ সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জামায়াতের নেতারা জানাচ্ছেন যে তারা শুধু দলীয় কর্মীদের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। নারী ভোটার থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম এবং শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও দলটির প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে আগের তুলনায় তিনগুণের বেশি সমর্থন বৃদ্ধির যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, মাঠের বাস্তবতাও তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে চার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের বিজয় তরুণ সমাজের রাজনৈতিক মনোভাবের নতুন রূপ তুলে ধরেছে।
২০০৯ থেকে জুলাই বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদি সরকারের দমন পীড়নে জামায়াতের রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে ছিল। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি, হাজারো গ্রেপ্তার, গুম আর নিষেধাজ্ঞার চাপে দলটি কঠিন সময় পার করে। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টানোর পর আবারো তারা মাঠে নেমেছে এবং জনগণের সঙ্গে নতুন আস্থা গড়ে তুলছে।
নারী ভোটাররা এ নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন কারণ দেশের ভোটারদের প্রায় অর্ধেকই নারী। সেজন্য জামায়াতের মহিলা বিভাগ গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে নানা সেবামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন মানুষের মাঝে তুলে ধরছেন এবং নারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, সুষ্ঠু পরিবেশ পাওয়া গেলে আগামী নির্বাচন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নীরব ভোট বিপ্লবের জন্ম দিতে পারে। জনগণের পরিবর্তনের আশা এবার জামায়াতকে কেন্দ্র করেই এগোচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত