মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম : এক সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দাপটের সঙ্গে এলাকা শাসন করা কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। একাধিক সূত্র অনুযায়ী, নাশকতার মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এই নেতা। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে – সামান্য অজুহাতে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা থেকে শুরু করে ক্ষমতার বল দেখিয়ে অনেকের জায়গা-সম্পত্তি দখল করা, এমনকি নিরীহ মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের ফিরিস্তি:
অর্থ ও চাঁদাবাজি: সামান্য বা মিথ্যা অজুহাতে এলাকার মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা ও অর্থ দাবি করতেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে নেমে আসতো চরম নির্যাতন।
জমি দখল: ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনেকের পৈতৃক ভিটা ও জায়গা-সম্পত্তি জোর করে দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ: স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে এলাকাছাড়া করেছেন।
এলাকার জনগণ দীর্ঘদিন ধরেই তার অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ ছিলেন। সরকারের পটপরিবর্তনের পর এবং নাশকতার মামলায় তার আটকের খবরে মনিপুর গ্রামসহ হাসনাবাদ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগগুলোও তদন্ত করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু নাশকতার মামলাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের ওপর চালানো সকল অত্যাচারের সুষ্ঠু তদন্ত করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।